বারুইপুর কাণ্ডে এবার এফআইআর সুজন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে! দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টার অভিযোগে সরব বিজেপি
নিজস্ব প্রতিনিধি: বারুইপুরের নাবালিকা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হলো তীব্র তরজা। এই ঘটনায় উস্কানিমূলক মন্তব্য ও মিথ্যা খবর ছড়িয়ে জনসমক্ষে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী-সহ চার বাম নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল বিজেপি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারুইপুর থানায় গিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এই লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাম নেতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন পদ্ম শিবিরের স্থানীয় নেতৃত্ব।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বারুইপুরের মর্মান্তিক ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সুজন চক্রবর্তী এবং আরও কয়েকজন সিপিএম নেতা প্রথম থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনসমক্ষে অত্যন্ত প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখছেন। অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়ো ও অসত্য তথ্য প্রচার করে এলাকায় শান্তিভঙ্গ করার এবং দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন এই বাম নেতারা। বিজেপির বারুইপুর সাংগঠনিক জেলার এক শীর্ষ নেতার কথায়, "একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএম নোংরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। অসত্য খবর ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে দাঙ্গা বাঁধানোর চক্রান্ত চলছে। আমরা এর আইনি প্রত্যুত্তর চাই।"
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জমা পড়া ওই লিখিত অভিযোগে শুধু সুজন চক্রবর্তীই নন, তাঁর পাশাপাশি আরও তিন স্থানীয় ও জেলা স্তরের সিপিএম নেতার নাম রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানি, মিথ্যা খবর রটানো এবং সমাজে অশান্তি বা দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
বিজেপির এই আইনি পদক্ষেপের পর পাল্টা সুর চড়িয়েছে আলিমুদ্দিনও। সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বারুইপুরের ঘটনায় যেভাবে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন, তাতে বিজেপিও ভয় পেয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখ ঘোরাতেই বিরোধী বাম নেতাদের কণ্ঠরোধ করার এই মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইনি পথেই এই মিথ্যে অভিযোগের মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছে বাম শিবির।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত অভিযোগপত্রটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

