রাজ্য
বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে নতুন করে তদন্তের দাবি
প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: সুটিয়া গণধর্ষণ প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে (Barun Biswas Murder Case) দীর্ঘ ১৪ বছর পর নতুন করে তদন্তের দাবি উঠল। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে তাঁর পরিবার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বনগাঁর পুলিশ সুপার এবং বনগাঁ জিআরপি (GRP) থানায় লিখিতভাবে এই নতুন তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।
পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বরুণ বিশ্বাসের খুনের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল। অসিত বিশ্বাস সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, “রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু) সহ স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা বরুণকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা চাই এই ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে মামলায় যুক্ত করে নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা হোক।”
২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা রেল স্টেশনের বাইরে নৃশংসভাবে গুলি করে খুন করা হয়েছিল গাইঘাটার সুটিয়ার বাসিন্দা ও কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে। সুটিয়া এলাকায় দুষ্কৃতী রাজ ও নারীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করে গড়ে তুলেছিলেন 'সুটিয়া গণধর্ষণ প্রতিবাদ মঞ্চ'। তাঁর এই খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তভার সিআইডি-র (CID) হাতে গেলেও, মূল রাজনৈতিক মাথাদের আড়াল করার অভিযোগ বারবার তুলেছে পরিবার।
বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে বরুণের পরিবার নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু করেছে। অসিতবাবুর দাবি, তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের যোগসাজশ থাকার কারণেই আসল সত্য ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। বনগাঁ জেলা পুলিশ ও জিআরপি সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বরুণ হত্যার প্রকৃত তদন্ত ও দোষীদের সাজার দাবিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে গাইঘাটা তথা গোটা উত্তর ২৪ পরগনায়।

