রাজ্য
মমতার বাড়ি লাগোয়া তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডির ম্যারাথন তল্লাশি
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার মামলার তদন্তে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল কালীঘাট। মঙ্গলবার বিকেলে দলীয় প্রধান তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাসভবন লাগোয়া ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কার্যালয়ে হানা দিল সিআইডি। তীব্র বাদানুবাদ ও দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের টানটান উত্তেজনার পর কার্যালয়ে ঢুকে প্রায় দু' ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালান আধিকারিকেরা। তল্লাশি শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ সিআইডি টিম ওই চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
এদিন বিকেলে সিআইডি-র প্রায় ৩০ জনের একটি বিশাল টিম স্থানীয় পুলিশ ও মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে পৌঁছায়। কিন্তু তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে প্রথমটায় তীব্র বাধা দেওয়া হয়। কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তী গোয়েন্দাদের পথ আগলে দাঁড়ান। তাঁর যুক্তি ছিল, মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি দলীয় কর্মসূচিতে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই তল্লাশি চালানো যাবে না। পালটা সিআইডি আধিকারিকেরা সাফ জানিয়ে দেন, আইনি নিয়ম মেনেই তাঁরা এসেছেন এবং তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি চালাতে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ বাদানুবাদ ও উত্তেজনার পর অবশেষে বিকাল ৪টের কিছু পরে সিআইডি-র ৯ জন অফিসারের একটি দল ভিডিওগ্রাফার নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে।
কেন এই তল্লাশি? গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠিতে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। বিধানসভা সচিবালয়ের এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারে, বিতর্কিত ওই সই সংগ্রহ ও রেজিলিউশন তৈরির মূল কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল কালীঘাটের এই কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই। সেই জালিয়াতির অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতেই এই ম্যারাথন অভিযান চালানো হয়।
একই সময়ে অভিষেক ব্যানার্জির ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও সিআইডি-র আরেকটি দল তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীদের এই জোড়া হানায় চরম রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

