রাজ্য
হোটেলে জায়গা হল না দার্জিলিংয়ের পর্যটকদের
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সোশ্যাল মিডিয়ার ভরসায় হোটেল বুকিং ছাড়া দার্জিলিং যাত্রা। ফলে কনকনে ঠান্ডায় স্টেশনেই রাত কাটল পর্যটকদের। গরমের ছুটিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রানি দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হলেন বহু পর্যটক। কোনো অগ্রিম পরিকল্পনা কিংবা হোটেলের প্রি-বুকিং ছাড়াই, শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমের রিলস আর ভিডিও দেখে পাহাড়ে পৌঁছেছিলেন তাঁরা। ফলস্বরূপ, উপচে পড়া ভিড়ের জেরে রাতভর হন্যে হয়ে ঘুরেও মিলল না মাথা গোঁজার ঠাঁই। শেষ পর্যন্ত শিশু এবং মহিলাদের নিয়ে কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই দার্জিলিং রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাত কাটাতে বাধ্য হলেন বিপন্ন পর্যটকরা।
তিল ধারণের জায়গা নেই পাহাড়ে, ফলে চরম দুর্ভোগ পর্যটকদের। গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে প্রতি বছরের মতো এবারও পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দার্জিলিং ও তার আশেপাশের সমস্ত হোটেল, লজ এবং হোমস্টেগুলি বর্তমানে সম্পূর্ণ হাউসফুল। এই মরশুমের ভিড়কে আন্দাজ করতে না পেরে বহু পরিবার কোনো বুকিং ছাড়াই সরাসরি পাহাড়ে চলে আসেন।
ভুক্তভোগী পর্যটকদের সূত্রে জানা গেছে, ম্যালে পৌঁছানোর পর বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁরা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হোটেলের সন্ধানে ঘোরেন। কিন্তু কোথাও একটি ঘরও খালি ছিল না। কিছু জায়গায় ঘর মিললেও তার ভাড়া ছিল আকাশছোঁয়া, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের বাজেটের বাইরে। একদিকে পাহাড়ে পারদ নামছিল হু হু করে, অন্যদিকে সাথে থাকা ছোট ছোট শিশুদের কান্নাকাটি— সব মিলিয়ে চরম অসহায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অবশেষে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত দার্জিলিং স্টেশনেই আশ্রয় নেন এই পর্যটকেরা।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটরদের মতে, এই সংকটের অন্যতম বড় কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার ও অন্ধ বিশ্বাস। অনেক সময়েই বিভিন্ন ভ্লগার বা পেজ থেকে দাবি করা হয় যে "বুকিং ছাড়াই সস্তায় ঘর মিলবে"। এই ধরনের তথ্যের ফাঁদে পা দিয়েই সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, "আমরা বারবার পর্যটকদের অনুরোধ করি, মরশুমের সময়ে অগ্রিম বুকিং ছাড়া পাহাড়ে আসবেন না। বর্তমানে অফবিট জায়গাগুলিও পর্যটকে ঠাসা। না জানিয়ে চলে এলে এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই হবে।"
এই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটকদের সচেতন হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে আসার আগে অন্তত হোটেল এবং গাড়ি বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।এই ঘটনাটি সমস্ত ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। যেকোনো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে মরশুমের সময়ে যাওয়ার আগে শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা এবং সঠিক পরিকল্পনা করা অত্যন্ত জরুরি।

