রাজ্য
দার্জিলিংকে 'জিরো কার্বন' শহর ঘোষণার দাবি!
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দার্জিলিং: পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ের আদি ও অকৃত্রিম রূপ ধরে রাখতে এবার সেটিকে ‘জিরো কার্বন’ (Zero Carbon) শহর হিসেবে ঘোষণা করার দাবি উঠল। শৈলশহরে লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা পর্যটকের চাপ এবং তার জেরে অতিরিক্ত যানবাহনের ধোঁয়ায় দার্জিলিংয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের কাছে লিখিত আরজি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলি।
হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম’ (ACT)-এর কনভেনর রাজ বসু এই বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, যেভাবে প্রতিদিন দার্জিলিং শহরে শত শত ডিজেল ও পেট্রোল চালিত গাড়ি প্রবেশ করছে, তাতে শৈলশহরের বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠছে। রাজবাবু সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, অবিলম্বে যদি কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দার্জিলিংয়ের চিরপরিচিত প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মনোরম আবহাওয়া সম্পূর্ণ নষ্ট হতে বাধ্য।
কী এই 'জিরো কার্বন' প্রস্তাব? দার্জিলিংকে দূষণমুক্ত করতে পরিবেশপ্রেমী ও পর্যটন বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে পর্যটনমন্ত্রীর কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেমন, দার্জিলিং শহরের মূল কেন্দ্র ও ম্যাল চত্বরে ধোঁয়া ছড়ানো গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে শুধুমাত্র ব্যাটারি চালিত ই-ভেহিকল (E-Vehicles) বা পরিবেশবান্ধব যান চলাচল নিশ্চিত করা। মরসুমের সময়ে বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের গাড়ি শহরের নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে পার্কিং করিয়ে সেখান থেকে সরকারি পরিবেশবান্ধব পরিবহণের মাধ্যমে শহরে আনা। শহরের কার্বন নির্গমন কমাতে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও বর্জ্য পদার্থের আধুনিক উপায়ে দ্রুত নিষ্কাশন করা।
পরিবেশবিদদের দাবি, দার্জিলিংয়ের পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলেও এখানকার পরিবেশকে সবার আগে বাঁচাতে হবে। পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের কাছে এই আবেদন জমা পড়ার পর, পরিবেশপ্রেমীরা আশা করছেন যে রাজ্য পর্যটন দপ্তর এবং পুরসভা যৌথভাবে দ্রুত এই বিষয়ে কোনো বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। দার্জিলিং যদি ‘জিরো কার্বন’ শহরের তকমা পায়, তবে তা শুধু পরিবেশ রক্ষা করবে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দার্জিলিং পর্যটনের ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও বাড়িয়ে দেবে।

