রাজ্য
দিঘার মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ, নতুন নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ওড়িশা সরকারের তীব্র আপত্তির পর দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দটি চূড়ান্তভাবে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির আপত্তির প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘোষণা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই মন্দিরের ক্ষেত্রে ‘ধাম’ শব্দটির ব্যবহার সনাতন সংস্কৃতির রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখন থেকে এই মন্দির কমপ্লেক্সটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’।
মঙ্গলবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির একটি বিশেষ চিঠি নিয়ে নবান্নে পৌঁছান পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। ওই চিঠিতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী দিঘার মন্দিরে ‘ধাম’ শব্দটির ব্যবহারের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার এবং ওড়িশার কোটি কোটি জগন্নাথ ভক্তের ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেন। এর পরেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান: পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই প্রকল্পটিকে মূলত একটি ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটিকে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে প্রচার করা শুরু হয়, যা সনাতন রীতিনীতির পরিপন্থী। সনাতন হিন্দু ধর্মে আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত চার ধামের অন্যতম হলো ওড়িশার পুরী। তাই পুরীর আদি ও অকৃত্রিম আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই দিঘার নাম থেকে এই শব্দ বাদ দেওয়া হলো।
তবে নাম থেকে ‘ধাম’ বাদ দেওয়া হলেও দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পূজা, ভোগ বিতরণ এবং নিত্যদিনের সমস্ত ধর্মীয় ও মন্দিরভিত্তিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্নভাবে আগের মতোই চলতে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত এবং ইসকন (ISKCON) কলকাতার সহ-সভাপতি তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাসও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

