রাজ্য
‘ডিম নয়, এবার ইট মারা হবে!’ পলাতক পঞ্চায়েত প্রধানদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলীপের
প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সরকার বদল হতেই এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে গ্রামীণ এলাকায়। মে মাসের ৪ তারিখে ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের দুই হাজারেরও বেশি পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজকর্ম কার্যত স্তব্ধ। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকাছাড়া। কেউ কেউ এলাকায় থাকলেও ভয়ে পঞ্চায়েত কার্যালয়মুখী হচ্ছেন না। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম নাকাল হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পলাতক প্রধান ও উপপ্রধানদের উদ্দেশে চরম কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো জনপ্রতিনিধিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, জনগণের করের টাকায় মাসের পর মাস বেতন নিয়ে ঘরে বসে থাকা চলবে না। তিনি বলেন, “হয় ভালো মানুষের মতো চলে আসুন, কাজ করুন। না হলে ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে।” কাজ করতে অক্ষম হলে তাঁদের অবিলম্বে পদ আঁকড়ে না থেকে ইস্তফা দেওয়ারও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় পঞ্চায়েত স্তরে এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কাস্ট সার্টিফিকেট, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন পঞ্চায়েত অফিসে এসে ঘুরে যেতে হচ্ছে। প্রধান ও উপপ্রধানদের অনুপস্থিতিতে কোনো ফাইলে সই হচ্ছে না। এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই এবার সরাসরি মারমুখী হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী।
পঞ্চায়েতমন্ত্রীর এই ‘ইট মারার’ নিদানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়ে এভাবে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হিংসা ছড়ানোর মতো মন্তব্য করা অনুচিত। তবে শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে এবং ফাঁকিবাজ ও পলাতক জনপ্রতিনিধিদের সঠিক লাইনে আনতেই এই কড়া অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন মন্ত্রী।

