রাজ্য
চিকিৎসার নামে চলেছিল ধ্বংসলীলা, ডক্টরস ডে-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাতীয় চিকিৎসক দিবসের (ডক্টরস ডে) অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত সরকারের জমানায় চিকিৎসার নামে কার্যত ধ্বংসলীলা চলেছে বাংলায়।
১ জুলাই চিকিৎসক দিবসের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ তুলনা টেনে আনেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একসময় বলেছিলেন, যেখানেই হাত দিচ্ছি সেখানেই দেখছি বিধানচন্দ্র রায় কাজ শুরু করেছিলেন। আর আমি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি, স্বাস্থ্য দপ্তরের যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই শুধু ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি।”
বিগত সরকারের স্বাস্থ্যনীতির তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন আজও উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলা থেকে হাজার হাজার রোগীকে ভিন রাজ্যে ছুটে যেতে হয়? এই রাজ্যেই কি সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব ছিল না? সরকারি হাসপাতালগুলির তৎকালীন করুণ অবস্থার খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এতদিন তো সরকারি হাসপাতালের ভিতরে সাধারণ মানুষের বদলে কুকুর-বিড়াল শুয়ে থাকত। এই ছিল আগের সরকারের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা।”
তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মেধা, দক্ষতা এবং চিকিৎসকদের যোগ্যতা দেশের যে কোনও প্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম। কিন্তু পূর্বতন সরকারের অপদার্থতা এবং দুর্নীতির কারণে সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কখনই কাজে লাগানো হয়নি। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ায় রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।
বক্তব্যের শেষে পূর্বতন শাসকদলের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “চিকিৎসার মতো একটি জরুরি ও মানবিক ক্ষেত্রে অন্তত রাজনীতির কোনও প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তৃণমূল সরকার সেটাকেই নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিল। মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করার সেই সংস্কৃতি আমরা এবার বন্ধ করব।” নতুন সরকার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলে সাধারণ মানুষকে সঠিক পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

