বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
রাজ্য

জিআই তকমা পেল হুগলির চার ঐতিহ্য

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬
জিআই তকমা পেল হুগলির চার ঐতিহ্য
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিশ্বমঞ্চে বাংলার মুকুটে জুড়ল এক নতুন পালক। এবার জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই (GI) ট্যাগ পেল হুগলি জেলার চার প্রাচীন ঐতিহ্য। চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ, বলাগড়ের নৌকা শিল্প, জনাইয়ের মনোহরা মিষ্টি এবং বেগমপুরের তাঁতের শাড়িকে এই বিশেষ ভৌগোলিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া হুগলি জেলা জুড়ে।

এই চার শিল্প ও খাদ্যসামগ্রীর ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। চন্দননগরের সূর্য মোদকের বিখ্যাত ‘জলভরা সন্দেশ’ জামাইষষ্ঠী থেকে শুরু করে বাঙালির যে কোনও উৎসবে অপরিহার্য। কামড়ালে সন্দেশের ভেতর থেকে গোলাপ জল মিশ্রিত নলেন গুড়ের রস বেরিয়ে আসার স্বাদ এবার বিশ্বজনীন স্বীকৃতি পেল। তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল জলভরা সন্দেশ।
একইভাবে জনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মনোহরা’ মিষ্টির খ্যাতিও বহু পুরনো। ছানার গোল্লাকে চিনির রসে ডুবিয়ে তৈরি এই মিষ্টির ওপর চিনির একটি শক্ত আস্তরণ থাকে, যা মিষ্টির স্বাদকে দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ণ রাখে।
খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি স্বীকৃতি পেয়েছে হুগলির শতাব্দীপ্রাচীন দুই কুটির শিল্পও। হুগলির বলাগড়ের তৈরি কাঠের নৌকার কদর রয়েছে দেশজুড়ে। গঙ্গার অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই নৌকা শিল্প বহু পরিবারের রুটিরুজি। এবার জিআই তকমা মেলায় এই হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় জায়গা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বেগমপুরের সুতি ও সুদৃশ্য তাঁতের শাড়ি হালকা এবং আরামদায়ক হওয়ার জন্য বরাবরই জনপ্রিয়। এখানকার তাঁতশিল্পীদের তৈরি শাড়ি এবার বিশ্ববাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আইনি পদ্ধতির পরে এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত কারিগর, শিল্পী ও বাসিন্দারা। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই চার ঐতিহ্যের জিআই ট্যাগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নথিপত্র তৈরি ও আবেদনের প্রক্রিয়া চলছিল। এই তকমা পাওয়ার ফলে নকল সামগ্রীর রমরমা বন্ধ হবে এবং মূল কারিগররা তাঁদের পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন। একই সঙ্গে হুগলি জেলার পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে আশাবাদী জেলাবাসী।