টাকা ধার নিয়ে শোধ না করার জের? গৃহবধূকে কুপিয়ে খুন!
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভরসন্ধেয় বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকছিল এক যুবক। সেই ডাক শুনে দোতলা থেকে নীচে নেমে দরজা খুলতেই গৃহবধূর ওপর নেমে এল ধারালো অস্ত্রের একের পর এক কোপ! রবিবার সন্ধেয় হাওড়ার শিবপুর থানা এলাকার ব্যাঁটরা সংলগ্ন একটি আবাসন চত্বরে এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত মহিলার নাম সুমনা রায় (৩৫)। টাকা ধার নিয়ে তা সময়মতো শোধ করতে না পারার জেরেই এই নৃশংস খুন বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত যুবক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ শিবপুরের ওই আবাসনের সামনে এসে এক যুবক সুমনাদেবীকে ফোন করে নীচে আসতে বলে। ফোন পেয়ে সুমনাদেবী দোতলার ঘর থেকে নীচে নেমে সদর দরজা খোলেন। অভিযোগ, দরজা খুলতেই ওত পেতে থাকা ওই যুবক আচমকা তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সুমনাদেবীর গলা এবং বুকে পরপর কোপ বসিয়ে দেয় সে।
আক্রান্ত মহিলার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে রক্তাক্ত অবস্থায় চম্পট দেয় ঘাতক। গুরুতর জখম অবস্থায় সুমনাদেবীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতার স্বামীর দাবি, বেশ কিছুদিন আগে এক যুবকের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন সুমনাদেবী। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে সেই টাকা সময়মতো শোধ করতে পারছিলেন না। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ওই যুবক ফোনে তাঁদের হুমকি দিচ্ছিল। পাওনা টাকা আদায় করতেই এই খুন বলে নিশ্চিত পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিবপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইতিমধ্যেই আবাসনের প্রবেশপথ এবং আশেপাশের রাস্তার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে আতায়ীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, খুনি ওই মহিলার পূর্বপরিচিত এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই সে খুনের উদ্দেশ্যে এসেছিল। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

