রাজ্য
মন্দিরের সোনাতেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ!
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
জলপাইগুড়ি: এবার খোদ ৫১ সতীপীঠের অন্যতম পবিত্র ক্ষেত্রেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজের থাবা! জলপাইগুড়ির বোদাগঞ্জের বিখ্যাত সতীপীঠ ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বেনজির আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের ভক্তি এবং প্রণামীর টাকা নিয়ে এমন ন্যাক্কারজনক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় রীতিমতো স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় ও মন্দির সূত্রে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ওই সতীপীঠের প্রণামী বাক্স থেকে শুরু করে ভক্তদের দান করা সোনা ও রুপোর গয়না এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সরাসরি চলে যেত এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পকেটে। মন্দিরের উন্নয়নের কাজে সেই টাকা ব্যবহার না করে, তার সিংহভাগটাই নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিত শাসকদলের একঝাঁক নেতা। আর অভিযোগের তির যার দিকে, তিনি হলেন মন্দির কমিটির সভাপতি তথা জলপাইগুড়ির দাপুটে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। অভিযোগ, তিনিই সুকৌশলে এই গোটা সিন্ডিকেট রাজের মাথায় বসে সবকিছু পরিচালনা করতেন।
মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীদের অভিযোগ, মা ভ্রামরীদেবীর চরণে সাধারণ মানুষ যে সোনা বা রুপোর অলঙ্কার ও অর্থ ভক্তিভরে সঁপে দিতেন, তার কোনও সঠিক হিসাব রাখা হতো না। কৃষ্ণ দাসের ছত্রছায়ায় থাকা সিন্ডিকেটের সদস্যরা সেই অমূল্য সম্পত্তি কার্যত লুঠ করত। সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ আছড়ে পড়ার পরই এই লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা বড়সড় কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষী তৃণমূল নেতাদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, পবিত্র ধর্মস্থানকে কালিমালিপ্ত করার এই ঘটনায় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

