বাজেটে জলপেশ মন্দিরের রূপ বদল ও মেলার জাতীয় স্বীকৃতির ঘোষণা, খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গে
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত এবং প্রাচীন শৈবতীর্থ জলপেশ মন্দিরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও ঐতিহাসিক জলপেশ মেলাকে 'জাতীয় উৎসব'-এর মর্যাদায় উন্নীত করার ঘোষণা করা হলো এবারের বাজেটে। সোমবার বিজেপি সরকারের পেশ করা প্রথম রাজ্য বাজেটে এই বিশেষ ঘোষণার পর থেকেই খুশির হাওয়া জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি সংলগ্ন জলপেশ মন্দির চত্বরে। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
বাজেট ঘোষণার পর গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন জলপেশ মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক গিরিন্দ্রনাথ দেব। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় পর্যটন এবং লোকসংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটবে।
প্রতি বছর শিবরাত্রি ও শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী এই মন্দিরে আসেন। মেলাটি জাতীয় উৎসবের স্বীকৃতি পেলে এখানকার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে (NBDD) এই ঐতিহাসিক মন্দিরের জীর্ণোদ্ধার ও সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে মন্দির কমিটির একাংশের অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে ঘোষণার পরেও লাল ফিতের ফাঁসে আটকে কোনো কাজই সেভাবে এগোতে পারেনি।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকার পর, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই মন্দিরের সামগ্রিক ভোলবদলের এই আশ্বাস কার্যত নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীরাও সরকারের এই ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত। শ্রাবণী মেলা ও শিবরাত্রির সময় পুণ্যার্থীদের ভিড় সামাল দিতে এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতির স্বার্থে এই জীর্ণোদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবি জানিয়েছে ট্রাস্টি বোর্ড।

