রাজ্য
জঙ্গলমহলে বিপুল খনিজ ভাণ্ডার, বাণিজ্যিক খননের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি নতুন সরকারের
প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিল্পায়নে গতি আনতে এবার জঙ্গলমহলের খনিজ মানচিত্রকেই পাখির চোখ করতে চলেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপুল পরিমাণ ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ (Rare Earth Minerals) বা দুর্লভ খনিজের সন্ধান পেয়েছেন ভূবিজ্ঞানীরা। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। দুই জেলার একাধিক ব্লকে দ্রুত খননকার্য শুরু করা এবং খনিগুলির বাণিজ্যিক নিলাম ডাকার অনুমতি চেয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রককে চিঠি দিতে চলেছে নবান্ন।
প্রশাসনিক ও ভূবৈজ্ঞানিক সূত্রে খবর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার রুক্ষ মাটির নিচে থাকা এই খনিজ ভাণ্ডার মূলত আধুনিক প্রযুক্তির দুনিয়ায় অত্যন্ত কৌশলগত উপাদান। প্রাথমিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, এই অঞ্চলের চিহ্নিত ব্লকগুলিতে বিপুল পরিমাণ খনিজ মজুত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়ার কালাপাথর-রঘুডিহ ব্লকের মতো এলাকায় প্রায় ০.৬৭ মিলিয়ন টন দুর্লভ খনিজের উপস্থিতি ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই খনিজের বাণিজ্যিক উত্তোলন পুরোদমে শুরু হলে এক ধাক্কায় রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়াবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। একই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে তৈরি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ, যা জঙ্গলমহলের অর্থনৈতিক চেহারাটাই বদলে দিতে পারে।
নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম দিকের প্রশাসনিক বৈঠকেই এই বিরল খনিজ উত্তোলনের বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ব্যাটারি তৈরির মূল উপাদান লিথিয়াম ছাড়াও পটাশিয়াম, তামা ও ফসফেটের মতো মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এতদিন এই ধরনের অতি প্রয়োজনীয় উপাদানের জন্য ভারতকে মূলত বিদেশের আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। ফলে জঙ্গলমহলের এই খনিগুলি চালু হলে দেশীয় শিল্পের ক্ষেত্রে এক বড় স্বনির্ভরতা আসবে। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে এবং কেন্দ্র থেকে দ্রুত সবুজ সংকেত মিললে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই খনি ক্ষেত্র থেকে বিপুল আয়ের মুখ দেখতে পারে বাংলা, আশাবাদী নবান্নের শীর্ষ মহল।

