রাজ্য
কালীঘাটে জয়া, মমতা-অভিষেকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লির ‘ইন্ডিয়া’ জোটে একসঙ্গে শামিল হলেও, সাম্প্রতিককালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির (SP) দূরত্ব কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলছিল। দিনকয়েক আগেই কলকাতায় এসে সমাজবাদী পার্টির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দ তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামল অখিলেশ যাদবের দল। সমস্ত জল্পনা উসকে দিয়ে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিভেজা বিকেলে সটান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে হাজির হলেন সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ রাজ্যসভা সাংসদ জয়া বচ্চন।
এদিন বিকেলে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে পৌঁছান সেলিব্রিটি সাংসদ। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই শিবিরের এই শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠককে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও দুই তরফের কাউকেই এই বৈঠকের নির্যাস বা ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কিরণময় নন্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে তৃণমূলের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সম্পর্কে যে মৃদু তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা ঢাকতেই অখিলেশ যাদবের বিশেষ দূত হিসেবে জয়া বচ্চনের এই কালীঘাট সফর। জয়া বচ্চনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত মধুর। অতীতে একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও অখিলেশের নির্দেশে তৃণমূলের হয়ে বাংলায় প্রচার করতে এসেছিলেন জয়া।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচন এবং লোকসভার পরবর্তী কৌশল নিয়ে দুই দলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতেই এই ঝটিকা সফর। শরিকি মান-অভিমান ভুলে ২০২৬ সালের চব্বিশের লড়াইয়ের পর বিজেপি বিরোধী জোটের সলতে পাকানোর কাজ যে তলে তলে জারি রয়েছে, তা জয়া-মমতার এই বৈঠক থেকেই স্পষ্ট।

