রাজ্য
কুমারগ্রাম থানার ব্রিটিশ আমলের ভবনকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি, মন্ত্রীকে স্মারকলিপি
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: ব্রিটিশ আমল থেকে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কুমারগ্রাম থানার ঐতিহাসিক ভবনটিকে হেরিটেজ (Heritage) তালিকাভুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। আলিপুরদুয়ার জেলার সেই সুপ্রাচীন দাবিকে সামনে রেখে এবার নতুন করে সরব হলো ‘আলিপুরদুয়ার হেরিটেজ সোসাইটি’। জলদাপাড়ায় আয়োজিত সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের নবনিযুক্ত বন ও পরিবেশমন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজকুমার ওরাওঁ-এর হাতে এই সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি তুলে দিলেন সোসাইটির প্রতিনিধিরা। কুমারগ্রাম থানার ঐতিহ্যবাহী ভবনটি সংরক্ষণের পাশাপাশি জেলায় একটি আদিবাসী সংগ্রহশালা বা ট্রাইবাল মিউজিয়াম (Tribal Museum) গড়ে তোলারও জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার জেলার ইতিহাস ও জনজাতির সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হেরিটেজ সোসাইটির পক্ষ থেকে যে মূল দাবিগুলি মন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে। দাবিগুলি হল কুমারগ্রাম থানার শতাব্দীপ্রাচীন ভবনটিকে দ্রুত হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংস্কারের ব্যবস্থা করা। ডুয়ার্সের আদিবাসী ও বিভিন্ন জনজাতির প্রাচীন সংস্কৃতি, পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য আলিপুরদুয়ারে একটি আধুনিক ট্রাইবাল মিউজিয়াম গড়ে তোলা।
হেরিটেজ সোসাইটির সদস্যদের কাছ থেকে এই স্মারকলিপি পাওয়ার পর ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন মন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। তিনি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “এটি অত্যন্ত সুন্দর এবং সময়োপযোগী একটি প্রস্তাব। ডুয়ার্সের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি। আমি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিটি পাঠিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে এই বিষয়গুলি নিয়ে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বিশদে আলোচনা করব।”
স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, ডুয়ার্সের সীমান্ত সংলগ্ন কুমারগ্রাম থানার এই ভবনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের বহু ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের ইতিহাস। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রাচীন এই স্থাপত্যটি আজ জরাজীর্ণ। যদি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংরক্ষণ করা যায়, তবে তা জেলার পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে ট্রাইবাল মিউজিয়াম গড়ে উঠলে ডুয়ার্সের হারিয়ে যেতে বসা আদিবাসী কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে। মন্ত্রীর আশ্বাসে এখন আশার আলো দেখছেন জেলার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষেরা।

