রাজ্য
তিন মাস পার, মেয়ের খোঁজে বুকে-পিঠে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে একলা বাবার লড়াই রাজপথে
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬
বিশেষ সংবাদদাতা: ঘড়ির কাঁটা ধরে কেটে গিয়েছে ৯০টারও বেশি দিন। তিন মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও একমাত্র মেয়ের কোনও হদিস মেলেনি। প্রতিদিন সকালে ঘরের দরজা খোলার সময় বুক বেঁধে আশা জাগে— এই বুঝি মেয়ে ফিরে এলো। কিন্তু রাত বাড়ার সাথে সাথে সেই আশা পরিণত হয় চরম অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা আর বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাসে। অবশেষে ঘরের চার দেওয়ালে বন্দি সেই অসহ্য শূন্যতাকে সঙ্গী করে আর বসে থাকতে পারলেন না এক অভাগা পিতা। নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে এবার নিজেই নেমে পড়েছেন শহরের উত্তপ্ত রাজপথে।
কলকাতা ও শহরতলির রাস্তায় ইদানীং পথচলতি মানুষের নজর কাড়ছে এক প্রৌঢ়ের করুণ আকুতি। তাঁর বুকে এবং পিঠে ঝুলছে একটি বড় প্ল্যাকার্ড। সেই প্ল্যাকার্ডের ঠিক মাঝখানে জ্বলজ্বল করছে তাঁর হারিয়ে যাওয়া মেয়ের হাসিমুখের ছবি। ছবির নিচে যত্ন করে লেখা রয়েছে মেয়ের নাম, নিখোঁজ হওয়ার তারিখ, নিখোঁজকালীন পরনের পোশাক, শারীরিক বর্ণনা এবং একটি যোগাযোগের ফোন নম্বর। ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় বুক-পিঠে এই পোস্টার সাঁটিয়েই মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেছেন তিনি। উদ্দেশ্য একটাই— যদি কোনও অপরিচিত সহৃদয় মানুষের চোখে তাঁর মেয়ের মুখটি চেনা ঠেকে, যদি কোনও সূত্র ধরে ফিরে পাওয়া যায় বুকের পাজরকে।
পুলিশের দোরে দোরে ঘুরে এবং নিখোঁজ ডায়েরি করেও যখন মাসের পর মাস কোনও সদুত্তর মেলেনি, তখনই এই অভিনব অথচ মর্মান্তিক প্রতিবাদের পথ বেছে নেন ওই বাবা। বাসের ভিড়, ট্রাফিকের সিগন্যাল কিংবা বাজারের ব্যস্ততা— সব জায়গাতেই তিনি নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকছেন নিজের বুক-পিঠের বিজ্ঞাপন নিয়ে। পথচলতি অনেকেই থমকে দাঁড়িয়ে দেখছেন সেই ছবি, কেউ কেউ মোবাইলে তুলে নিচ্ছেন যোগাযোগের নম্বর। একলা বাবার এই লড়াই এবং চোখের জল দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষও। প্রশাসনের উদাসীনতাকে আড়াল করে এক বাবার এই একক অন্বেষণ এখন সমাজমাধ্যমের পাতাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মেয়েকে বুকে ফিরিয়ে না পাওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না বলে জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধ।

