মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরার তোড়জোড় নবান্নে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি কর্মীদের হাজিরা পদ্ধতিতে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। এবার আর বায়োমেট্রিক বা ফেস রিকগনিশন যন্ত্রের লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রান হতে হবে না, নবান্নের চৌহদ্দিতে পা রাখলেই নিজের মোবাইল থেকে সেরে নেওয়া যাবে হাজিরা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নবান্নের কর্মী ও আধিকারিকদের জন্য বিশেষ একটি মোবাইল ‘অ্যাটেনডেন্স অ্যাপ’ চালু করার জোড়ালো পরিকল্পনা চলছে। নবান্নে সফল হলে পরবর্তীকালে রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত সরকারি কার্যালয়গুলিতেও ধাপে ধাপে এই ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
নবান্নের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সকাল সোয়া দশটার মধ্যে বায়োমেট্রিক বা ফেস রিকগনিশন সিস্টেমে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অফিস থেকে বেরোতেও হয় নির্দিষ্ট সময় পার করে। পরপর তিনদিন এই সময়ের হেরফের ঘটলে নিয়মানুযায়ী একটি নৈমিত্তিক ছুটি (ক্যাজুয়াল লিভ বা সিএল) কাটা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই কড়া নিয়মের জেরে রোজ সকালেই নবান্নে ঢোকার মুখে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় কর্মীদের মধ্যে।আসল সমস্যা তৈরি হয় নবান্নের একতলার লিফটগুলির সামনে। একসঙ্গে শত শত কর্মী এসে পৌঁছালেও লিফটে চড়ে নির্দিষ্ট তলার দফতরে পৌঁছাতে অনেকটাই সময় নষ্ট হয়। ফলে নবান্নের মূল গেট দিয়ে ঠিক সময়ে ঢুকলেও, লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের টেবিলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে হাজিরার সময় পেরিয়ে যায় অনেকেরই।
ফেস রিকগনিশন যন্ত্রের গোলমালে ‘লেট’ মার্ক পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিত্যদিন চরম ক্ষোভ ও সমস্যায় পড়ছিলেন কর্মীরা।
এই জট কাটাতেই এবার অ্যাপ-নির্ভর হাজিরার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এই অ্যাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা ট্রায়াল রান শুরু হয়ে গিয়েছে। আইটি বিশেষজ্ঞদের তৈরি এই অ্যাপটিতে থাকবে ‘জিও-ফেন্সিং’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ, কোনও কর্মী অফিসের মূল ভবনের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ করলেই তাঁর মোবাইলের এই অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে। তখন কর্মচারীরা নিজেদের মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে একবার ক্লিক করেই হাজিরা নিশ্চিত করতে পারবেন। এর ফলে লিফটের দীর্ঘ লাইন বা মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আর কারও হাজিরা নষ্ট হবে না। সব ঠিক থাকলে দ্রুতই নবান্নের সমস্ত মহলে এই অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

