রাজ্য
নবান্নে শিবরাজ-শুভেন্দু বৈঠক, দুর্যোগে মিলবে অতিরিক্ত ৫০ দিনের কাজ
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অরণ্য সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্য রাজনীতি এবং প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় তৎপরতা। দু'দিনের রাজ্য সফরের শেষলগ্নে নবান্নে এসে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। নবান্ন সভাঘরের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা। বৈঠক শেষে গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামীণ শ্রমিকদের স্বার্থে একগুচ্ছ ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এদিনের বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আবাস যোজনার বাড়ি তৈরি, 'বিকশিত ভারত জি রাম জি' প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য 'হাতে কাজ ও মাথায় ছাদ' সুনিশ্চিত করাই যে এই ডবল ইঞ্জিন সরকারের মূল লক্ষ্য, তা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই বৈঠকের পরই বাংলার গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তিনি জানান, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের অধীনে শ্রমিকদের জন্য সাধারণ অবস্থায় ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি তো থাকছেই। তবে এল নিনো বা খরার মতো কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে, গ্রামীণ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সেই কাজের মেয়াদ আরও ৫০ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে দুর্যোগের দিনেও শ্রমিকদের রোজগার বন্ধ হবে না এবং কাজের খোঁজে তাঁদের পরিযায়ী হতে হবে না।
পাশাপাশি, নবান্নের মাটি থেকেই রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী। বাংলায় গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে থাকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার আগেও রাজ্যের উন্নয়নের জন্য বিপুল টাকা দিয়েছে। কিন্তু পূর্বতন সরকারের নেতাদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বাংলার সাধারণ মানুষ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থেকেছেন।” তবে সরকার পরিবর্তনের পর পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ঝুলে থাকা ৮২,৪৯২ কোটি টাকার জট ইতিমধ্যেই মুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

