রাজ্য
বিশ্বমঞ্চে পাহাড়ের টয়ট্রেন, ইউনেস্কোর হেরিটেজ ফোরামে ভারতের প্রতিনিধি ঋষভ চৌধুরী
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিশ্বমঞ্চে ফের একবার উজ্জ্বল হতে চলেছে পাহাড়ের গর্ব তথা হেরিটেজ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত ইউনেস্কোর (UNESCO) আসন্ন আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ফোরামে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী। আগামী ১৬ জুলাই থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে শুরু হতে চলেছে তিন দিনের এই অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। যেখানে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রথম সারির প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। ভারত থেকে ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ টয়ট্রেনের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ডিএইচআর-এর ডিরেক্টরকে বিশেষভাবে মনোনীত করা হয়েছে।
দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি খাঁজ বেয়ে চলা এই খেলনা ট্রেন বা টয়ট্রেন ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর কাছ থেকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পেয়েছিল। তবে বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ের ধস, ট্র্যাকে প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবা বারবার নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই আবহে দক্ষিণ কোরিয়ার এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ডিরেক্টরের অংশগ্রহণ দার্জিলিং টয়ট্রেনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রেল সূত্রের খবর, তিন দিনের এই বিশ্ব সম্মেলনে হেরিটেজ ক্ষেত্রগুলির মৌলিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে সেগুলির সংরক্ষণ, আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশ ঘটানো যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সফল হেরিটেজ মডেলগুলির অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানোর বিষয়টিতেও জোর দেওয়া হবে এই আলোচনায়। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে দার্জিলিং টয়ট্রেনের পরিকাঠামোগত মানোন্নয়ন এবং বিশ্ব পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। এই মনোনয়ন প্রসঙ্গে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আধিকারিকেরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। তাঁদের মতে, ইউনেস্কোর এই বিশ্ব ফোরামে ভারতের অংশগ্রহণ শুধুমাত্র দার্জিলিং টয়ট্রেনের গরিমাকেই আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরবে না, বরং আগামী দিনে এই ঐতিহাসিক পার্বত্য রেলের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের মানোন্নয়নেও বড়সড় দিশা দেখাবে।

