শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ মেঘনাদের নামে দেওয়াল লিখন ঘিরে সরগরম রাজনীতি
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোট ঘোষণার আগেই প্রার্থী পদ নিয়ে দেওয়াল লিখন ও পোস্টার রাজনীতিতে ফের একবার শিরোনামে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। ‘নন্দীগ্রামকে বদলে দেওয়া’ এবং ‘উন্নত নন্দীগ্রাম গড়ার’ ডাক দিয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালকে প্রার্থী করার দাবিতে পোস্টার সাঁটানো হলো নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের জানারবাজার এলাকায়। বিধানসভা উপ-নির্বাচনের ঠিক মুখে খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মেঘনাদবাবুর নামে এই পোস্টার পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পদ্ম শিবিরের অন্দরে।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ-নির্বাচনে বিজেপির টিকিট কে পাবেন, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে অলক্ষ্যে একটা লড়াই চলছিলই। জেলা রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অঞ্জন ভারতী কিংবা আর এক পরিচিত মুখ প্রলয় পালের মতো প্রথম সারির নেতাদের নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছিল। কিন্তু সেই সব জল্পনাকে ছাপিয়ে আচমকাই জানারবাজার এলাকায় মেঘনাদ পালের সমর্থনে পোস্টার পড়ে যাওয়ায় দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কি দলের একাংশ মেঘনাদবাবুকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে বার্তা দিতে চাইছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নন্দীগ্রামের মোড়ে মোড়ে।
তাঁর নাম জড়িয়ে পোস্টার পড়ার এই ঘটনায় অবশ্য জল ঢালতে চেয়েছেন খোদ মেঘনাদ পাল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বিজেপি নেতা স্পষ্ট জানান, "উপ-নির্বাচনে কে দলের প্রার্থী হবেন, তা সম্পূর্ণভাবে ঠিক করবে আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই ধরনের পোস্টার মারা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করার কোনো রাজনৈতিক মূল্য নেই।" দল যাকে দায়িত্ব দেবে, তাঁর হয়েই সবাই কাজ করবেন বলে তিনি দাবি করেন।
বিজেপির এই পোস্টার বিতর্ককে কেন্দ্র করে স্বভাবতই কটাক্ষের সুর চড়িয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, উপ-নির্বাচনের টিকিট পাওয়া নিয়ে বিজেপির ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবার হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছে। টিকিট পাওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা এখন থেকেই নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি শুরু করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, উপ-নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ যে এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

