নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ছাত্রমৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্র। কিন্তু তাকে যখন কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর (১৭) এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত ছাত্রের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে মিশন কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও চিকিৎসার গাফিলতি রয়েছে বলে সরব হয়েছে নিহতের পরিবার। ইতিমধ্যেই নরেন্দ্রপুর থানায় মিশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
জানা গিয়েছে, দীপ্তাংশু নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মিশনের হস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করতেন। ৩০ জুন স্কুলে ক্লাস চলছিল। সেই সময় দীপ্তাংশু গরম চা পান করেন। তার ঠিক পরেই তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। ছাত্রকে অসুস্থ হতে দেখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করেন। দীপ্তাংশুকে প্রথমে মহামায়াতলার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। এরপর দীপ্তাংশুকে তড়িঘড়ি ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই খবর মধ্যমগ্রামে দীপ্তাংশুর বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ক্ষুব্ধ পরিজন ও প্রতিবেশীরা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পৌঁছান। মিশনের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ছাত্রদের স্বাস্থ্যের দেখভালে কেন খামতি থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

