বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
রাজ্য

গুরুত্ব চা-আমে, মনের মতো বাজেটের প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬
গুরুত্ব চা-আমে, মনের মতো বাজেটের প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উত্তরবঙ্গে শিল্পের জোয়ার আনতে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় ব্যবসায়ীদের সাথে প্রি-বাজেট বৈঠক করলেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আগামী ২০ জুন রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের আগে, উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ দূর করতে এবং ব্যবসায়ী মহলের আস্থা ফেরাতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ দপ্তর। বৈঠকে উত্তরবঙ্গে একটি জিএসটি ট্রাইব্যুনাল (GST Tribunal) গঠন করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির 'উত্তরকন্যা' সচিবালয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই প্রি-বাজেট আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং অর্থ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আমলারা। উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির (যেমন CII, ফোসিন) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি বসে তাঁদের সমস্যা ও বাজেট প্রস্তাব শোনেন মন্ত্রীরা। 
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, উত্তরবঙ্গের মানুষের মনের মতো এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী একটি বাজেট তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। এবারের বাজেটে মূলত যে বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে, সেগুলি হলো উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের জিএসটি সংক্রান্ত জটিলতা ও আইনি নিষ্পত্তির জন্য কলকাতায় ছুটতে হতো। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা দূর করতে শিলিগুড়িতে একটি জিএসটি আপিল ট্রাইব্যুনাল খোলার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া ডুয়ার্স ও পাহাড়ের ধুঁকতে থাকা চা বাগানগুলির সমস্যা এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বাজেটে বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করার ইঙ্গিত মিলেছে। দার্জিলিংয়ে একটি টি মিউজিয়াম বা চা সংগ্রহশালা তৈরির দাবিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালদার বিখ্যাত আম চাষের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং উত্তরবঙ্গের অন্যান্য ফল (যেমন আনারস, কমলালেবু) ও কৃষিজাত ব্যবসার প্রসারে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
 উত্তরবঙ্গে নতুন ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করতে মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটিতে ২ শতাংশ ছাড় দেওয়ার দাবিটি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা, উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বিশেষ 'বৌদ্ধ সার্কিট' এবং পরিবেশ-বান্ধব ট্রেইল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। 
বৈঠক শেষে আগের সরকারের নীতিকে খোঁচা দিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত মন্তব্য করেন, "আগে রাজ্য সরকারের বাজেট তৈরি হতো ট্রেডমিলে। আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের চাহিদা বুঝে বাজেট তৈরি করছি।" তিনি আরও স্বীকার করেন যে, পূর্বতন সরকারের থেকে প্রায় দেউলিয়া রাজকোষ পেলেও উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ঘটানোই তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার।
এই প্রথম কোনও রাজ্য সরকারের গোটা অর্থ দপ্তর কলকাতায় বসে না থেকে সরাসরি উত্তরবঙ্গে এসে প্রি-বাজেট বৈঠক করায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আশা, আসন্ন বাজেটে উত্তরবঙ্গের অর্থভাগ এবং পরিকাঠামোয় বড়সড় চমক থাকতে চলেছে।