রাজ্য
প্রথমবার মহাকরণে শ্যামাপ্রসাদ-স্মরণ, ইকো পার্কে মূর্তির শিলান্যাস অমিত শাহের
প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে ‘ভারত কেশরী’ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। এ বছর তাঁর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী হওয়ায় স্বভাবতই অনুষ্ঠানের জাঁকজমক ও গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। সোমবার এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা। এই প্রথমবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর মহাকরণে সরকারিভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হলো শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী। সোমবার সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও মহাকরণের বহু কর্মী ও আধিকারিক এদিন সেখানে সশরীরে উপস্থিত হন এবং তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
উদ্যোক্তাদের একাংশের মতে, বাংলার ইতিহাসে ও ভারতের অখণ্ডতা রক্ষায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের যে অনবদ্য ভূমিকা ছিল, তা এতদিন এক প্রকার আড়ালেই রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক অবদানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে এবং তাঁকে যোগ্য সম্মান দিতে এই পবিত্র দিনে বেশ কিছু ইতিবাচক ও বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নতুন রাজ্য সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে কলকাতার নিউ টাউনের ইকো পার্কে একটি ১২৫ ফুট দীর্ঘ প্রকাণ্ড শ্যামাপ্রসাদ মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার বিকেলে কলকাতায় এসে সেই বহুপ্রতীক্ষিত মূর্তির শিলান্যাস ও ভূমিপূজন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন বিকেলে দমদম বিমানবন্দরে নেমেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি চলে যান ইকো পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে। সেখানে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্য প্রশাসন ও বর্তমান শাসকদলের শীর্ষ স্তরের নেতৃবৃন্দ। মূলত শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তীর এই মেগা কর্মসূচিতে যোগ দিতেই এদিন কলকাতায় ঝটিকা সফরে আসেন শাহ। ইকো পার্কের এই শিলান্যাস পর্ব সেরে তিনি ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদি বাসভবনে যান এবং পরবর্তীতে বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মূল স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সব মিলিয়ে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই প্রথম সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে ও গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হলো ভারত কেশরীর জন্মোৎসব।

