কালীঘাটকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ! বদলে গেল রচনার সুর
নিজস্ব প্রতিনিধি: টলিউড থেকে রাজনীতি— সেলিব্রিটিদের দলবদল বাংলার রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। কিন্তু দল ছাড়ার পর পুরনো দলের সুপ্রিমোকে এমন চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণের ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। যে ‘দিদি নম্বর ১’ (Didi No 1)-এর মঞ্চে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রুটি বেলেছিলেন, সেই মঞ্চের সঞ্চালিকা তথা হুগলির বর্তমান সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Hooghly MP Rachna Banerjee) সুর এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া রচনা এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কালীঘাটের দিকে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর নিজের তারকা খ্যাতির জোরেই জেতা সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের অন্দরের সেই বহুচর্চিত মিথ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যেখানে বলা হয় ‘বাংলায় দিদির মুখ আর জোড়াফুল লোগো থাকলেই যে কেউ জিতে যেতে পারে’। এই দাবি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে রচনা বলেন, "রাম-শ্যাম-যদুকে লোগো ধরিয়ে দিলে হুগলি আসনটা তৃণমূল পেত না।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাবকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমাকে ব্যবহার করেননি মমতা? ফুটপাতের মেয়েকে তুলে এনে দাঁড় করাননি কেন?" রচনার এই চাঁছাছোলা মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, দল বা চিহ্নের কারণে নয়, বরং মানুষের কাছে তাঁর নিজস্ব যে গ্রহণযোগ্যতা ও তারকা ইমেজ রয়েছে, ঠিক সেই কারণেই হুগলির মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। এরই জেরে সম্প্রতি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে এনডিএ-পন্থী দল এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেন। শুরুতে দলবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি "শ্রদ্ধা ও পুরনো সম্পর্ক" বজায় রাখার কথা বললেও, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে রচনার এই মারাত্মক ভোলবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল ত্যাগের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে হুগলির সাংসদ জানিয়েছেন যে, তাঁর নির্বাচনী এলাকা বলাগড়ের গঙ্গা ভাঙন রোধসহ একাধিক বড় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাহায্য প্রয়োজন। গত দেড় মাসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার যা কাজ করেছে, তাতে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী বলেও জানান। তবে দল ছাড়ার পর পুরনো দলের শীর্ষনেত্রীকে এভাবে সরাসরি ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বেশ নজিরবিহীন। রচনার এই 'বিদ্রোহী' রূপের জবাবে তৃণমূল বা কালীঘাটের তরফ থেকে আগামীদিনে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার।

