রাজ্য
লক্ষ্যে অবিচল: জাপানে কালনার সায়নী
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়। একে একে বিশ্বের ছয়টি কঠিন চ্যানেল পার করে এসেছেন তিনি। এবার জীবনের শেষ ও সবচেয়ে কঠিন ধাপে এসে দাঁড়িয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের কালনার নামী সাঁতারু সায়নী দাস। লক্ষ্য, 'ওশেনস সেভেন' বা সপ্তসিন্ধুর শেষতম চ্যালেঞ্জ— জাপানের সুগারু প্রণালী জয় করা। এই শেষ বাধাটি টপকাতে পারলেই প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে সাত সমুদ্র জয়ের এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইতিহাস ছুঁয়ে ফেলবেন বাংলার এই জলকন্যা।
সেই স্বপ্নকে সার্থক করতেই গত রবিবার রাতে মা, বাবা ও কোচের সঙ্গে জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন সায়নী। মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন তিনি। শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁর চূড়ান্ত পর্যায়ের কঠিন অনুশীলন। জাপানের কনকনে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ঠান্ডা জলেই প্রথম দিনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন সায়নী। সমাজমাধ্যমে সায়নী নিজেই তাঁর প্রথম দিনের হাড়কাঁপানো অনুশীলনের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। যা দেখে ইতিমধ্যেই তাঁর সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেছেন আপামোর ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ।
প্রকৃতির পরিস্থিতি যদি অনুকূল থাকে, তবে আগামী ৩ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে সুগারু চ্যানেল পার হতে মূল সাঁতার শুরু করবেন সায়নী। তবে প্রশান্ত মহাসাগরের এই প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সমুদ্রপথ মনে করা হয়। তীব্র ও অনিশ্চিত জলস্রোত, প্রতিকূল আবহাওয়া তো আছেই, তার সাথে রয়েছে প্রবল ঠান্ডা জল। এর পাশাপাশি জলের নিচে সাদা হাঙর, বিষাক্ত জেলিফিশ এবং টুনা মাছের মতো সামুদ্রিক প্রাণীদের আক্রমণের আশঙ্কাও তাড়া করে বেড়াচ্ছে কালনার সাঁতারুকে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ের ভূমিকম্প এবং সুনামির আশঙ্কাও বাড়তি চিন্তা জাগিয়েছে তাঁর মনে।
তবুও সমস্ত ভয় ও প্রতিকূলতাকে জয় করতে বদ্ধপরিকর সায়নী। একসময় ইংলিশ চ্যানেল জয়ের জন্য তাঁর মধ্যবিত্ত বাবা-মাকে বাড়ি পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল। তবে এবার জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় সেই সংকট কেটেছে। অতীতের সমস্ত লড়াইকে সম্বল করে ফের জলে নামছেন সায়নী।

