রাজ্য
অল্পের জন্য অধরা সপ্তসিন্ধু, অসুস্থ সায়নী
প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছেও প্রকৃতি আর শারীরিক অসুস্থতার কাছে থমকে যেতে হলো বাংলার জলকন্যাকে। অল্পের জন্য অধরাই রয়ে গেল কালনার সাঁতারু সায়নী দাসের বিশ্বরেকর্ড গড়ার স্বপ্ন। বিশ্বের সাতটি বিপজ্জনক চ্যানেল বা 'সপ্তসিন্ধু' জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শনিবার শেষ বাধা জাপানের সুগারু চ্যানেলে নেমেছিলেন সায়নী। কিন্তু মাঝসমুদ্রে ১৫ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর আচমকাই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় সাঁতার বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একে একে বিশ্বের ছয়টি কঠিনতম সিন্ধু বা চ্যানেল জয় করে ফেলেছিলেন সায়নী। সুগারু চ্যানেলটি জয় করতে পারলেই প্রথম বাঙালি মহিলা হিসেবে সপ্তসিন্ধু জয়ের এক অনন্য ইতিহাস তৈরি হতো তাঁর। সেই লক্ষ্যেই শনিবার জাপানের সমুদ্রে নেমেছিলেন কালনা শহরের বারুইপাড়ার এই কৃতি সাঁতারু। অনুকূল পরিস্থিতি থাকলেও বেশ কিছু পথ যাওয়ার পর হঠাৎই শারীরিক অসুস্থতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে স্বস্তির খবর, সায়নী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এই সাময়িক ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে আগামী দিনে ফের এই চ্যানেল জয়ের জন্য তিনি প্রস্তুতি শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার।
ছোটবেলা থেকেই সাঁতারের প্রতি সায়নীর ছিল অদম্য টান। মেয়ের এই জেদ ও আগ্রহ দেখে বাবা রাধেশ্যাম দাস নিজেই পাড়ার পুকুর এবং সুইমিং পুলে তাঁকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। বাবার হাত ধরেই স্কুল স্তরের প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে আনেন সায়নী। এরপরই তাঁর লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় বিশ্বজয়। এ দিনের ঘটনায় কালনাবাসী কিছুটা হতাশ হলেও, সায়নীর এই লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সবাই। তাঁদের বিশ্বাস, খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাংলার এই মেয়ে আবার ট্রফি হাতে দেশ তথা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করবেন।

