আজ রাতেই জলে নামছেন সায়নী, লক্ষ্য প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে সপ্তসিন্ধু জয়
নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কালনার সাঁতারু সায়নী দাস। সপ্তসিন্ধু জয়ের স্বপ্নপূরণ করতে আজ, শুক্রবার রাতেই জাপানের দুর্গম সুগারু চ্যানেলের জলে নামছেন তিনি। এই চ্যানেলটি সফলভাবে পার হতে পারলেই প্রথম ভারতীয় মহিলা সাঁতারু হিসেবে বিশ্বের সাতটি কঠিনতম চ্যানেল (সপ্তসিন্ধু) জয়ের অনন্য নজির গড়বেন সায়নী।
ইতিমধ্যেই বিশ্বের সাতটি বিপজ্জনক সমুদ্রপথের মধ্যে ছয়টি—ইংলিশ চ্যানেল, ক্যাটালিনা চ্যানেল, মলোকাই চ্যানেল, কুক প্রণালী, নর্থ চ্যানেল ও জিব্রাল্টার চ্যানেল জয় করে ফেলেছেন তিনি। সপ্তম তথা শেষ ধাপ হিসেবে এবার তাঁর লক্ষ্য জাপানের সুগারু চ্যানেল। এই অভিযানের জন্য বেশ কিছুদিন আগেই জাপান পৌঁছে গিয়েছেন সায়নী। সেখানে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি ও অনুশীলন সেরে এখন তিনি শুধু জলে নামার অপেক্ষায়।
অভিযান কমিটির সময়সূচি অনুযায়ী, ভারতীয় সময় আজ শুক্রবার রাত ১২টা ৪১ মিনিটে (জাপানের সময় শনিবার ভোর ৪টে ১১ মিনিট) জাপানের হনসুর কোদোমারি পোর্ট থেকে সাঁতার শুরু করবেন তিনি। জানা গিয়েছে, সায়নী ছাড়াও এদিন সুইৎজারল্যান্ড ও তুরস্কের আরও দুই সাঁতারু এই চ্যানেল পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।
সুগারু চ্যানেলকে বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ও বিপজ্জনক জলপথ হিসেবে গণ্য করা হয়। ভৌগোলিক নিরিখে এই চ্যানেলের সোজাসুজি দূরত্ব মাত্র ১৯.৫ কিলোমিটার হলেও, সমুদ্রের তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়া এড়াতে ঘুরপথে সায়নীকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ সাঁতার কাটতে হবে। এই দীর্ঘ পথ পার করতে তাঁর আনুমানিক ১৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেয়ের এই ঐতিহাসিক অভিযানে পাশে থাকতে জাপানে উপস্থিত রয়েছেন সায়নীর বাবা রাধেশ্যাম দাস ও মা। পাশাপাশি সায়নীকে প্রতিনিয়ত গাইড করছেন তাঁর কোচ তথা দ্রোণাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত তপন কুমার পানিগ্রাহী। সায়নীর বাবা রাধেশ্যাম দাস জানান, "এই চ্যানেল পার হওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সায়নী মানসিকভাবে সম্পূর্ণ শক্ত ও আত্মবিশ্বাসী রয়েছে।" এখন কালনাবাসী তথা গোটা দেশ সায়নীর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

