শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার ধৃত তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে জুতো-চটি
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে এবং জনসভায় হামলার ঘটনায় চার বছর পর নাটকীয় মোড়। আদালতের নির্দেশে মামলার পুনর্নির্মাণ বা 'ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন' করতে গিয়ে চণ্ডীপুরে নজিরবিহীন গণরোষের মুখে পড়ল পুলিশ ও ধৃত তৃণমূল নেতারা। ধৃত চণ্ডীপুর ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি অসিত সিং, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিং এবং সহযোগী আকবর আলমকে ঘটনাস্থলে আনা মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশি ঘেরাটোপের তোয়াক্কা না করেই ধৃতদের লক্ষ্য করে চলে জুতো-চটি বৃষ্টি, উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ প্রচারের সময় চণ্ডীপুরের ভৈরবতলায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর সম্প্রতি এই মামলায় অসিত সিং ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিন দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ধৃতদের চণ্ডীপুরের সেই ভৈরবতলার দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। পুলিশের উদ্দেশ্য ছিল, সেদিনের হামলার ঘটনার দিনক্ষণ এবং গতিপ্রকৃতি ধৃতদের মুখ থেকে শুনে হুবহু মিলিয়ে দেখা। কিন্তু পুলিশ গাড়ি থেকে ধৃত তৃণমূল নেতাদের নামানো মাত্রই হিতে বিপরীত হয়। সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ চার বছরের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেন। ‘চোর চোর’ ও ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে কেঁপে ওঠে গোটা চণ্ডীপুর বাজার। ধৃতদের দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে যান উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, পুলিশের তৈরি করা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কয়েকজন উত্তেজিত বাসিন্দা অসিত ও তাঁর ভাইয়ের কলার ধরে দু-চার থাপ্পড়ও লাগিয়ে দেন। চারদিক থেকে ধৃতদের লক্ষ্য করে জুতো এবং চটি ছুঁড়তে শুরু করেন মহিলারা।
হঠাৎ এই গণবিক্ষোভে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। রিকনস্ট্রাকশনের কাজ মাঝপথেই থামিয়ে দিতে বাধ্য হন তদন্তকারী আধিকারিকরা। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ধৃতদের কোনওরকমে বাঁচিয়ে কার্যত চ্যাংদোলা করে ফের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় এবং দ্রুত এলাকা ছাড়ে পুলিশের গাড়ি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চণ্ডীপুর জুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, "তৃণমূলের হার্মাদরা এতদিন ক্ষমতার দাপটে মানুষের ওপর যে অত্যাচার চালিয়েছে, আজ সাধারণ মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।"

