রাজ্য
'মমতা আর ফিরবেন না’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুঙ্কার শুভেন্দুর
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনীতিতে স্থায়ী বলে কিছু হয় না— বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রবাদই সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। সোমবার বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরের পাল্টা জাতীয় কমিটি গঠনের পর মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে তিনি জোর গলায় দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রাজ্যের রাজনীতিতে ফিরবেন না, ওঁর অধ্যায় শেষ।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর বিধানসভা চত্বর জুড়ে তুমুল হট্টগোল ও রাজনৈতিক পারদ একধাক্কায় চড়ে যায়।
সোমবারই মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদক করে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী এক নতুন জাতীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। সেই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ঘটনার রেশ টেনেই মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁরা ভাবছেন এটা সাময়িক বিক্ষোভ, তাঁরা ভুল করছেন। যে দলের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই দল থেকে ছেঁটে বাদ পড়েন, সেই দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকেই যায়। বাংলার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, তারা নতুন সরকার পেয়েছে। মমতা আর ফিরবেন না।”
শুভেন্দুর এই চরম আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে পাল্টা সরব হয়েছে কালীঘাট শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বিধায়ক ও নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলবিরোধী কাজ করে বা জোর করে পাল্টা কমিটি গড়ে নেত্রীকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। তৃণমূলের আদি শিবিরের এক নেতা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের আবেগের নাম। কে কোন কমিটি গড়ল বা বিধানসভায় কে কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। দিদি আছেন এবং দিদিই বাংলার মানুষের হৃদয়ে থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই বক্তব্য আদতে তৃণমূলের অন্দরে চলা নজিরবিহীন ফাটলকে আরও চওড়া করার কৌশল। একদিকে নতুন সরকারের প্রশাসনিক চালচিত্র বদল, অন্যদিকে মূল বিরোধী দল তৃণমূলের ভেঙে দু'টুকরো হয়ে যাওয়া— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

