রাজ্য
তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ড: গ্রেপ্তার লজ মালিকের ছেলে
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তারাপীঠ: বীরভূমের তারাপীঠের তীর্থক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া শিউরে ওঠা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ‘বিদেশিনী’ নামের ওই ভস্মীভূত লজের মালিকের ছেলে কল্যাণ আশিস পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরেই তাঁকে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিলেন তদন্তকারীরা। টানা জেরার মুখে তাঁর বয়ানে একাধিক মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর পরেই রাতে পুলিশ তাঁকে সরকারিভাবে গ্রেপ্তার করে। ভোররাতের ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত তথা হোটেল মালিক তাপস পাল এখনও পলাতক।
ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে তারাপীঠ থানার পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত (Suo motu) মামলা রুজু করে তদন্তের ময়দানে নেমেছে। ধৃত কল্যাণ আশিসকে আজ মঙ্গলবার রামপুরহাট আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। লজের সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সোমবার বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এক উচ্চপর্যায়ের ফরেনসিক দল। লজের ভেতর থেকে পুড়ে যাওয়া তার ও শর্ট সার্কিটের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পলাতক মালিক তাপস পালের খোঁজে বীরভূম ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির বিভিন্ন গোপন আস্তানায় জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন ও দমকল দফতর। তারাপীঠের আর কোনও লজ বা হোটেলে যাতে এমন ‘জতুগৃহ’ পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এলাকার সমস্ত হোটেল ও আবাসনের বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা চিরুনি তল্লাশি করে পরীক্ষা করা হবে। লজগুলির বৈদ্যুতিক তার, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, মিটার, আর্থিং এবং অনুমোদিত লোড ঠিক আছে কি না তা দেখা হবে। একই সঙ্গে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, হাইড্র্যান্ট, পাম্প, জলের মজুত, হোস রিল, ফায়ার অ্যালার্ম, জরুরি আলো এবং ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (Smoke detector) সচল রয়েছে কি না, তা বাধ্যতামূলকভাবে খতিয়ে দেখবে পুলিশ ও দমকলের যৌথ দল।

