খরচ বাঁচাতে কোটি টাকার লোহার রডে কারচুপি!
নিজস্ব প্রতিনিধি: তারাতলার বেসব্রিজ এলাকায় নির্মীয়মাণ তিনতলা গোডাউনের ছাদ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয়ের নেপথ্যে এবার কোটি টাকার দুর্নীতির হদিস পেলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT)-এর ধারণা, বিপদ হতে পারে জেনেও শুধুমাত্র খরচ বাঁচাতেই নির্মাণকাজে চরম গাফিলতি করা হয়েছিল। পুরো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নামমাত্র মূল্যের লোহার রড বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা এই মরণ-ফাঁদ তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ।
অন্য দিকে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ঠিক কতজন শ্রমিক চাপা পড়ে রয়েছেন, তা নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে প্রশাসন।
কারণ, ঠিকাদারের কাছে শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও নথি বা রেকর্ডই ছিল না।
লালবাজারের ‘সিট’ পুরো প্রকল্পের নথি খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছে, তারাতলার ওই সুবিশাল তিনতলা গোডাউন নির্মাণের পুরো প্রকল্পের জন্য লোহার রড বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছিল মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার এবং গোয়েন্দারা হিসাব কষে দেখেছেন, এই আকৃতির একটি মজবুত বহুতল গোডাউন তৈরি করতে এই খাতেই আরও অনেক বেশি টাকা বরাদ্দ করার প্রয়োজন ছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সস্তা ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সারতেই লোহার রডের ওজনে এবং গুণগত মানে এই চরম কারচুপি করা হয়েছে।
লোহার বিম ও পিলারের বহন ক্ষমতার চেয়ে ঢালাইয়ের ওজন কয়েক গুণ বেশি হয়ে যাওয়াতেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে গোটা ছাদটি।
বিপর্যয়ের পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও এখনও কংক্রিট এবং লোহার বিমের স্তূপের নিচে ঠিক কতগুলি প্রাণ আটকে রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারছে না লালবাজার। পুলিশ জানিয়েছে, কাজ চলাকালীন কতজন শ্রমিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তার কোনও মাস্টার রোল বা লিখিত রেকর্ড মেলেনি। যদি কোনও হাজিরার খাতা থেকেও থাকে, তবে তা এই মুহূর্তে কয়েকশো টন ওজনের ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে নিখোঁজ শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা জানার এই মুহূর্তে কোনও বিকল্প রাস্তা নেই।
পরিজনদের হাহাকার আর আর্তনাদের ওপর ভিত্তি করেই চলছে উদ্ধারকাজ। লালবাজারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে ৫ সদস্যের ‘সিট’ গঠন করা হয়েছে। ধৃত প্রোমোটার ও গোডাউন মালিককে জেরা করে নির্মাণ সামগ্রীর বিল এবং অন্যান্য নথিপত্র জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। তবে শ্রমিকদের জীবন নিয়ে যেভাবে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

