রাজ্য
তারাতলা কাণ্ড: ধৃত কর্পোরেশনের ওএসডি কালীচরণ
প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। বেআইনি নির্মাণ ও দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) ওএসডি অর্থাৎ অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি কালীচরণ ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করা হলো। তারাতলা কাণ্ডের তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ এই প্রভাবশালী সরকারি কর্তাকে নিজেদের জালে পুরল।
পুলিশ সূত্রের খবর, তারাতলার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুরসভার একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এই কেলেঙ্কারিতে কালীচরণ ব্যানার্জির নাম জড়াতেই শুক্রবার সকালে লালবাজারের গোয়েন্দারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে আটক করেন। এরপর তারাতলা কাণ্ডে গঠিত ‘সিট’-এর আধিকারিকরা তাঁকে হেফাজতে রেখে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কিন্তু বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় এবং তদন্তে সহযোগিতা না করায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাতলার বেআইনি কাজকর্ম এবং প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে সম্প্রতি নবান্নের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না, সে তিনি যত বড় আধিকারিকই হোন না কেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। কালীচরণের এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারিরই সরাসরি প্রভাব বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কলকাতা পুরসভার ভেতরের খবর, কালীচরণ ব্যানার্জি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত প্রভাবশালী পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর এই গ্রেপ্তারি পুর প্রশাসনের অন্দরে আলোড়ন তৈরি করেছে। পুলিশের অনুমান, তারাতলার এই দুর্নীতির জাল আরও গভীরে বিস্তৃত এবং এই চক্রের সঙ্গে পুরসভার আরও কিছু আধিকারিক যুক্ত থাকতে পারেন। ধৃতকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

