রাজ্য
সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার মামলায় বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আদালতে বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়ায়, বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট) জারি করেছে কৃষ্ণনগর আদালত। মহুয়ার এই গরহাজিরাকে আদালতের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখে কৃষ্ণনগরের তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই কড়া পদক্ষেপ করেছে। আগামী ২৮শে আগস্টের মধ্যে এই পরোয়ানা কার্যকরের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুন মাসে কৃষ্ণনগর আদালত চত্বরে মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার প্রতিবাদের এক ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ। সেখানে তিনি বিক্ষোভকারী মহিলাদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করতে গিয়ে তুলসীমালা, বোরখা ও হিজাব পরা নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনে কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বাসিন্দা বেশ কয়েকজন মহিলা আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একগুচ্ছ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। আদালত তাঁকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার জন্য এর আগে একাধিক বার সমন জারি করে। কিন্তু মহুয়া মৈত্র এক দিনও আদালতে উপস্থিত হননি। এমনকি তাঁর আইনজীবী মারফত ভার্চুয়ালি হাজিরার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তাও আদালত খারিজ করে দেয়। বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় ক্ষুব্ধ বিচারক জানান, অভিযুক্তের এমন আচরণ আইনের প্রতি উদাসীনতা প্রকাশ করে। ফলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা ছাড়া আদালতের কাছে অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

