অবৈধ বালি ব্যবসা থেকে জমি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা শেখ লালন
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তোলাবাজি, অবৈধ বালি পাচার এবং জমি দখলের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হলো পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি শেখ লালনকে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দলের সহযোগিতায় তাঁকে জালে তোলে জেলা পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় থেকে নিজের রাজনৈতিক পদের দম্ভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার এবং ‘বাহুবলী’ সাম্রাজ্য চালানোর ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। তাঁর এই আকস্মিক গ্রেপ্তারি আউশগ্রাম তথা গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রাম এলাকার অজয় নদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘাট থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে বালি তোলার সিন্ডিকেট চালাচ্ছিলেন শেখ লালন। শুধু অবৈধ বালি ব্যবসা নয়, এলাকার বহু গরিব ও সাধারণ মানুষের কৃষিজমি গায়ের জোরে দখল করে নেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানোরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকায় তাঁর এতটাই দাপট ছিল যে, তাঁর ভয়ে এতদিন কোনও ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক পুলিশের কাছে মুখ খোলার সাহস পাননি।
তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতেই এলাকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসী তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজি, তোলাবাজি এবং জমি দখলের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ জমা পড়তেই গা-ঢাকা দিতে আউশগ্রাম ছেড়ে কলকাতায় পালিয়ে যান এই শাসকদলের নেতা। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের সহায়তায় তাঁর লুকিয়ে থাকার ডেরায় হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলি।
এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব কটাক্ষ করে জানিয়েছে, “কাটমানি, বালি চুরি আর সাধারণ মানুষের জমি দখল করাই ছিল এই নেতার আসল কাজ। এতদিন পুলিশকে পকেটে পুরে রেখেছিলেন। এখন পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, তাই শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ধৃত শেখ লালনকে ট্রানজিট রিমান্ডে আজ শুক্রবার আদালতে তোলা হবে এবং নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাঁর এই বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্যের বিষয়ে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

