দলের প্রতীক-নাম ভাঁড়ানোর অভিযোগ, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে জোড়া নালিশ কালীঘাট তৃণমূলের
নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কার পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিবাদ পৌঁছাল থানায়। দলের নাম, প্রতীক এবং পদাধিকার অবৈধভাবে ব্যবহার করে কর্মী ও সমর্থকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে— এই মারাত্মক অভিযোগ তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ (Ritabrata Banerjee) বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এবার পুলিশের দ্বারস্থ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন 'কালীঘাট তৃণমূল'।
দলের পক্ষে তৃণমূলের অন্যতম জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক তথা সাংসদ দোলা সেন কলকাতার কালীঘাট এবং বিধাননগর পুলিশের নিউটাউন থানায় এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই অভিযোগে নাম রয়েছে বিদ্রোহী শিবিরের শীর্ষনেতা অরূপ রায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং বিপ্লব মিত্রের।
বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো কী কী?
থানায় পাঠানো চিঠিতে দোলা সেন অভিযোগ করেছেন দল ছাড়ার বা বিদ্রোহী হওয়ার পর এই নেতারা নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে জাহির করছেন এবং সমান্তরাল সংগঠন চালাচ্ছেন। গত ২২ জুন নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে দলের মূল প্রতীক ও 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম ব্যবহার করে তাঁরা বেআইনিভাবে 'বিশেষ অধিবেশন' ডাকেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের 'সাধারণ সম্পাদক' বলে দাবি করে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহা নিজেদের দলের পদাধিকারী পরিচয় দিয়ে কলকাতার প্রাক্তন কাউন্সিলরদের বৈঠক ডেকেছেন, যা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও অবৈধ।
কালীঘাট ও নিউটাউন থানার ওসির কাছে দোলা সেন স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং প্রযোজ্য আইনের অধীনে এই নেতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হোক। একই সাথে, বিদ্রোহী শিবিরের এই কর্মসূচির পেছনে কারা অর্থ জোগাচ্ছে, কোন কোন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো হচ্ছে— সেই সমস্ত ডিজিটাল ও প্রিন্ট প্রমাণ খতিয়ে দেখে একটি 'স্বচ্ছ এবং সবিস্তার' তদন্তের দাবি তুলেছে কালীঘাট শিবির।
তবে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই তৎপরতা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম কাণ্ডারি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "দেশের আইন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। যে কেউ অভিযোগ দায়ের করতেই পারে, আইন আইনের পথে চলবে।"
২১ জুলাইয়ের 'শহিদ দিবস' সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের রেষারেষি যখন তুঙ্গে, তখন দলের প্রতীক ও নাম ব্যবহারের অধিকার নিয়ে এই আইনি লড়াই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

