ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পুজোয় ব্যবসা, অভিযুক্ত সস্ত্রীক ইন্দ্রনীল সেন
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হেরিটেজ (Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো (UNESCO). এবার সেই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম বেআইনি ও বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যবহার করে খাস কলকাতায় দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ (Preview Show) এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’র মহার্ঘ টিকিট বিক্রির এক বিরাট অভিযোগ সামনে এল। আর এই বেআইনি কার্যকলাপ চালানোর সরাসরি অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) এবং বউবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা।
অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ২০২২ সালের ২৪ জুন ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ (MassArt) নামের একটি সংস্থা গড়ে তোলেন. এরপর থেকেই তাঁরা নিজেদের ইউনেস্কোর অফিশিয়াল পার্টনার বা সহযোগী বলে ভুয়ো দাবি করতে শুরু করেন। অভিযোগে জানানো হয়েছে, কলকাতার প্রায় ২৪টি বাছাই করা নামী দুর্গাপুজো মণ্ডপে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে সেগুলিকে ‘প্রাইভেট জোন’ বা নিজস্ব এলাকা বানিয়ে ফেলা হয়েছিল।
সেখানে ভিআইপি ও প্রিভিলেজড প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ৪,০০০ টাকা মূল্যের প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেগা প্রতারণা করা হয়েছে। অথচ ইউনেস্কোর তরফ থেকে পাঠানো ইমেলের নথি পেশ করে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, এই টিকিট বিক্রির সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনো সম্পর্ক বা চুক্তিই ছিল না এবং কোনো অফিশিয়াল প্রতিনিধিদলও ওই মণ্ডপগুলি পরিদর্শনে আসেননি। যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।
তবে হেরিটেজ দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক সম্মানকে ব্যবহার করে খোদ কলকাতার বুকেই এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি ও পুজো কমিটিগুলির অন্দরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

