বিজেপির প্রথম বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি মিড ডে মিলের, স্কুলে বসবে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সোমবার বিধানসভায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করল শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। আর প্রথম বাজেটেই (West Bengal Budget 2026) বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো স্কুলশিক্ষার খোলনলচে বদলে ফেলতে একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সরকারি স্কুলগুলোতে মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়ানো থেকে শুরু করে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানোর মতো একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই বাজেটে।
শিক্ষাক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে পশ্চিমবঙ্গ বাজেটে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের উপকরণের খরচ পড়ুয়াপ্রতি ৪৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬.৭৮ টাকা থেকে সরাসরি ১০ টাকা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলোতে গুণগত মান বজায় রেখে পুষ্টিকর খাবার রান্না ও তা বণ্টনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসকনের (ISKCON) সহযোগিতা নেওয়া হবে। মিড ডে মিলের এই মানোন্নয়নের পাশাপাশি রান্নার কাজে যুক্ত রাঁধুনিদের মাসিক পারিশ্রমিকও ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার ঘোষণা করেছে সরকার।
নারী শিক্ষা ও ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে নতুন সরকার। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে ছাত্রীদের সুবিধার্থে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। এর পাশাপাশি কলেজ স্তরে পড়াশোনার মাঝপথে মেয়েদের স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা রুখতে অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্য এককালীন ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।
রাজ্যের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে Navodaya Vidyalaya এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ করার প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার প্রসারে ঝাড়গ্রামে একটি নতুন আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় (Tribal University) তৈরি করা হবে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের জন্য একটি নতুন আইআইটি (IIT) ও আইআইএম (IIM) স্থাপনের পাশাপাশি সংস্কৃত ভাষার প্রসারে সংস্কৃত কলেজের আধুনিকীকরণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বাজেটে রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকদের (Para-teachers) জন্য বড় সুখবর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁদের মাসিক বেতন একধাক্কায় ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি স্তরে যুক্ত আশা (ASHA) ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদেরও মাসিক পারিশ্রমিক ৫,০০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখতে স্কুল, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থানের ১ কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকানের লাইসেন্স না দেওয়ার কড়া নীতিও স্পষ্ট করেছে এই সরকার।

