বাজেটে ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’, মঠ-মন্দির সংরক্ষণে উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় পর্যটন ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল নতুন রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় পেশ হওয়া প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে (West Bengal Budget 2026) রাজ্যের সনাতন সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক স্থানগুলির আমূল ভোলবদল করতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে এই প্রথমবার তৈরি হতে চলেছে ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’ এবং ‘শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট’। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রাচীন মঠ-মন্দির সংরক্ষণ ও হেরিটেজ কমিশনকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে ৩,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল তহবিল বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সতীপীঠ ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলিকে একটি সুনির্দিষ্ট পর্যটন মানচিত্রে নিয়ে আসতেই এই ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’ (Shaktipitha Circuit) গড়ার উদ্যোগ। এর ফলে কালীঘাট, তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা, বক্রেশ্বর বা ফুল্লরার মতো জাগ্রত দেবীপীঠগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পুণ্যার্থীদের থাকার উন্নত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, বৈষ্ণব সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র নবদ্বীপ ও মায়াপুরকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বিশেষ ‘শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট’ গড়ে তোলা হবে।
রাজ্যের জরাজীর্ণ ও অবহেলিত ঐতিহাসিক ভবনগুলিকে বাঁচাতে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনকে পুনর্গঠন করার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন কোণে থাকা ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি, প্রাচীন স্থাপত্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলির বৈজ্ঞানিক উপায়ে পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের আধ্যাত্মিক পর্যটনকে চাঙ্গা করতে এবং প্রাচীন মঠ ও মন্দিরগুলির নিজস্ব গরিমা ফিরিয়ে দিতে এই ৩,০০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। এই বিপুল অর্থ দিয়ে শুধু মন্দির সংস্কারই নয়, তীর্থক্ষেত্রগুলির সংলগ্ন এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলো এবং নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হবে, যা পরোক্ষভাবে রাজ্যে বহু নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

