রাজ্য
রেল অবরোধ রুখতে কড়া হচ্ছে রাজ্য
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বদলে গিয়েছে নবান্ন ও রেলের সমীকরণ। কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকায় দীর্ঘদিনের চেনা সংঘাতের আবহ এখন অতীত। বরং রেলের উন্নয়ন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা— দুই ক্ষেত্রেই যৌথ সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি গত ৬ জুন স্বয়ং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই এ রাজ্যে রেলের বিভিন্ন থমকে থাকা ও নতুন প্রকল্পের জন্য রেকর্ড ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের মেগা ঘোষণা করেছেন তিনি।
এই বিপুল আর্থিক জোয়ারের আবহেই এবার বাংলায় বছরভর চলতে থাকা 'রেল অবরোধ'-এর সংস্কৃতিতে পাকাপাকিভাবে ইতি টানতে চলেছে প্রশাসন। নবান্ন সূত্রে খবর, কথায় কথায় ট্রেন লাইনে বসে পড়ে লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীকে ভোগান্তিতে ফেলার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার ক্ষেত্রে তাঁর সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে চলবে। আর সেই সূত্র ধরেই এবার রেলের চাকা স্তব্ধকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য ও রেল পুলিশ।
আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় রেল আইনের (১৯৮৯) ১৭৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে যেকোনো উপায়ে বাধা সৃষ্টি করা একটি অত্যন্ত গুরুতর ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, প্রতিবাদের নামে রেললাইনে বসে থাকা, ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেওয়া কিংবা রেলের প্রয়োজনীয় সিগনালিং সরঞ্জামের ক্ষতি করলে কড়া শাস্তি পেতে হবে। দোষী প্রমাণিত হলে আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত জেল, ২ হাজার টাকা জরিমানা অথবা একই সাথে দুটি সাজাই হতে পারে। এতদিন রাজনৈতিক কারণে এই আইনের প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও, এবার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এই কেন্দ্রীয় আইনই কড়া হাতে রাজ্যে লাগু করতে চলেছে প্রশাসন।

