চরম বিদ্যুৎ সংকটে বাংলাদেশ, ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল চাইল ঢাকা
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিদ্যুতের আকাশছোঁয়া চাহিদা আর তলানিতে ঠেকা জোগানের জাঁতাকলে পড়ে এই মুহূর্তে চরম বিদ্যুৎ সংকটে কার্যত অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে সমগ্র বাংলাদেশ। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলগুলিতে দিনে টানা ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বড় বড় শহরগুলিতেও ঘন ঘন দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল নাগরিক জীবন। এই নজিরবিহীন সংকট মোকাবিলা করতে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন তারেক রহমান সরকার দেশজুড়ে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি বা ‘অস্টেরিটি মেজার্স’ (Austerity Measures) ঘোষণা করেছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সমস্ত শপিং মল, বাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট প্রতিদিন রাত ৮টার মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করতে হবে।
এই তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের জেরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক (Garment) ও কৃষিক্ষেত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মাঠে সেচকার্য ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকদের চড়া দামে ডিজেল চালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন সংস্থা ‘এক্সিলারেট এনার্জি’র (Excelerate Energy) এলএনজি টার্মিনালে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের জেরে দেশে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। এই বিশাল জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করতে এবার চূড়ান্ত বিপাকে পড়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন তারেক রহমান সরকার।
জ্বালানি সংকট থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি পেতে দিল্লির কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের (IBFP) মাধ্যমে ডিজেল আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়াতে আর্জি জানিয়েছেন। ভারতের আসামের নুয়ালিগড় শোধনাগার থেকে শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়। আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডিজেল পাঠানোর বিষয়ে সাউথ ব্লক ইতিবাচক সবুজ সংকেত দিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

