মার্কিন জল সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হানা
নিজস্ব প্রতিনিধি: মিনেসোটা-সহ আমেরিকার একাধিক প্রদেশের জনস্বাস্থ্য ও জল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় সাইবার হামলার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মার্কিন মুলুকে। জুলাই মাসের শেষভাগে মিনেসোটার অন্তত ৩০টি পুরসভার জল সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রথম এই ডিজিটাল জালিয়াতি ও হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি নজরে আসে। এর কিছুদিন পরেই ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI) এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা জারি করে জানান যে, আমেরিকার কমপক্ষে সাতটি প্রদেশের জল সরবরাহ ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা এই সুপরিকল্পিত সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।
হ্যাকাররা মূলত ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল কন্ট্রোল সিস্টেমের (PLCs) পাসওয়ার্ড ও আইপি অ্যাড্রেস বদলে দিয়ে অপারেটরদের সিস্টেম থেকে লক-আউট করে দেয়। এর ফলে সাময়িকভাবে জল পরিষেবার চাপ ও রাসায়নিকের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটায় চরম বিপাকে পড়েন লক্ষ লক্ষ মার্কিন নাগরিক।এই আকস্মিক ও স্পর্শকাতর সাইবার হামলার নেপথ্যে ইরানের মদতপুষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ‘হান্দালা’র (Handala) হাত রয়েছে বলে সিআইএসএ (CISA) এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই হামলার ধরণ এবং কৌশল সম্পূর্ণভাবে ইরানি সাইবার যুদ্ধরীতির সঙ্গে মিলে যায়। তবে এক চমকপ্রদ মোড় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডের ক্যাবিনেট বৈঠকে এই ঘটনার জন্য ইরানের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং মিনেসোটা প্রশাসনের গাফিলতি ও ‘অযোগ্যতা’কে দায়ী করেন। কূটনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প সরাসরি এখনই এই ঘটনার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে তড়িঘড়ি কোনো পাল্টা সামরিক বা ডিজিটাল দ্বন্দ্বে জড়াতে চাইছেন না।এই সাইবার যুদ্ধ পরিস্থিতির সমান্তরালে তেহরানের সঙ্গে চলমান ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) পুনর্খোলার আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
ইরান জলপথটি খোলার জন্য আমেরিকার কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানালে, হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পাল্টা হিসেবে তেহরানের কাছে গত ৫০ বছরের ক্ষয়ক্ষতির বাবদ এক বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করে বসেন! ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত পাঁচ দশকের বিভিন্ন সংঘর্ষে এবং ইরানের ‘রোডসাইড বোমা’ বা আইইডি (IED) হামলায় যত মার্কিন সেনা ও সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, সেই সমস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইরানকেই। ফলে সাইবার হামলার জল্পনা এবং ট্রাম্পের এই অনড় পালটা ক্ষতিপূরণের শর্ত আগামী দিনে দুই দেশের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল।

