বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বিদেশ

‘ইসলামিক ন্যাটো’ জোটে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬
‘ইসলামিক ন্যাটো’ জোটে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর বাংলাদেশের কূটনীতিতে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ঢাকা এবং ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কে এবার বসন্তের ছোঁয়া। ১৯৭১ সালের গণহত্যার ইতিহাসকে এক প্রকার পাশে সরিয়ে রেখে একদা পরম শত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা গড়ে তুলছে তারেক রহমানের সরকার। এই কূটনৈতিক বদলের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত মিলেছে গত ৭ আগস্ট। ওই দিন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে মক্কায় একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই জোটকে ইতিমধ্যেই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বা ‘মিনি ন্যাটো’ বলে অবিহিত করা হচ্ছে।

এই সামরিক চুক্তির মূল শর্ত অত্যন্ত কড়া। বলা হয়েছে, জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর যদি কোনো সশস্ত্র হামলা হয়, তবে বাকি দুই দেশও সেই আক্রমণকে নিজেদের ওপর হামলা বলে গণ্য করবে। অর্থাৎ, ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির আদলেই এই ত্রিদেশীয় অক্ষ গড়ে উঠেছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটের সমীকরণ অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। পাকিস্তানের উল্টো দিকে সরাসরি নিশানায় রয়েছে ভারত। তুরস্কের নিশানায় গ্রিস ও সাইপ্রাস এবং সামগ্রিকভাবে এই অক্ষের তূণ রয়েছে ইরান ও ইজরায়েলের দিকে।
এই চরম ভারত-বিরোধী ও পশ্চিম এশিয়া-কেন্দ্রিক সামরিক জোটে পা বাড়াতে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তারেক রহমানের সরকারের বিদেশনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে রেখে তাঁরা এই জোটে ঢোকার রাস্তা খোলা রাখছেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই জোটে যেতে চাইছে ঢাকা? কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এর নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বহুমুখী কৌশলগত স্বার্থ। প্রথমত, হাসিনা পরবর্তী জমানায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে প্রবল শৈত্য তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় ভারতের একাধিপত্যকে রুখতে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে ঢাকার একটি শক্তিশালী সামরিক ছাতা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক অনুদান ও জ্বালানি তেলের জোগান নিশ্চিত করাও ঢাকার অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি, তুরস্কের আধুনিক সামরিক ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধাস্ত্রের প্রযুক্তি নিজেদের প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করতে চায় বাংলাদেশ সেনা। পাকিস্তানের কাছ থেকে সেনা প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তার বড় সুযোগও তৈরি হবে এই চুক্তির মাধ্যমে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে যা দিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

আরও বিদেশ খবর