বিদেশ
মায়ানমারে বৌদ্ধ মঠে বিমান হানা
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে কার্যত ছারখার প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার। এবার সেদেশের এক বৌদ্ধ মঠে অতর্কিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালাল ক্ষমতাসীন সেনা সরকার বা জুন্টা বাহিনী। এই সেনা হামলায় মঠের ভেতরে থাকা অন্তত ১৪ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ সাগাইং অঞ্চলের ওই মঠটি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে গোলাবর্ষণ করতে শুরু করে মায়ানমারের যুদ্ধবিমান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মায়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং প্রদেশের পশ্চিমে অবস্থিত মিয়াউং টাউনশিপের ‘সোয়েল লে ওহ’ গ্রামের একটি বৌদ্ধ মঠে এই নারকীয় হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে তখন সপ্তাহব্যাপী একটি বিশেষ ধর্মীয় ধ্যানের কার্যক্রম বা মেডিটেশন ক্যাম্প চলছিল। ওই শিবিরে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় শতাধিক নিরীহ পুণ্যার্থী। ঠিক সেই সময়েই আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ শুরু হয়। মৃতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় রক্তাক্ত হয়ে ওঠে গোটা মঠ প্রাঙ্গণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মায়ানমার সেনার একটি যুদ্ধবিমান প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে মঠ প্রাঙ্গণে পরপর দুটি শক্তিশালী বোমা ফেলেছিল। এর মধ্যে দ্বিতীয় বোমাটির তীব্র আঘাতে মঠের ঠিক পাশে থাকা একটি সাধারণ বাড়িও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি নিজেদের উদ্যোগে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে কবরস্থ করেন। এরপর জুন্টা সেনার নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে নিকটবর্তী অন্য একটি গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অসহায় গ্রামবাসীরা। মায়ানমারে গণতন্ত্রকামী বিদ্রোহীদের দমনে সেনার এই বর্বরোচিত হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

