বিদেশ
ফাঁসির সাজা সত্ত্বেও ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে হাসিনা!
প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: মাথার ওপর ঝুলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি স্বদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। নির্বাসন থেকে হাসিনার এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন-বার্তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায় এক নতুন ঝড়ের জন্ম দিয়েছে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ নেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে। কিন্তু নিজের দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চলা অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি দেশে ফিরতে চান। তাঁর কথায়, “মৃত্যু যদি আসেই, তবে তা যেন নিজের দেশের মাটিতেই আসে, যেখানে আমার মা-বাবার রক্ত মিশে রয়েছে।” নির্বাসিত দলের অন্য প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে নিয়েই তিনি ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে পা রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
হাসিনার এই অকুতোভয় ঘোষণার পরেই ওপার বাংলার শাসক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন দমনের নামে মানবতাবিরোধী অপরাধের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। সেই কারণেই আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পা রাখামাত্রই তাঁর সেই ফাঁসির সাজা কার্যকর করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসিনা স্বৈরাচারী শাসন চালিয়ে শত শত ছাত্র-জনতার রক্ত ঝরিয়েছেন, তাই দেশের মাটিতে তাঁর কোনও রাজনৈতিক পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঙ্কার ছেড়েছে সরকারপক্ষ।
অন্য দিকে, আওয়ামি লীগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই খবরে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। দলটির দাবি, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই সাজা ঘোষণা করেছে। তবে সব মিলিয়ে, ফাঁসির পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ডিসেম্বরে হাসিনার সম্ভাব্য ফেরা ওপার বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে মোড় দেওয়ায়, এখন সেটাই দেখার।

