বিদেশ
ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপ সরছে, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ। কিন্তু দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম ভূমিকম্পের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। দেশজুড়ে এখনও অব্যাহত রয়েছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। আর সেই ভাঙা কংক্রিটের তলা থেকে যত সময় যাচ্ছে, ততই উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক নিথর দেহ। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সরকারি সূত্রের শেষ খবর অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,১১৮ জনে।
গত ২৪ জুন মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি তীব্র কম্পনে কেঁপে উঠেছিল গোটা ভেনেজুয়েলা। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে প্রশাসন। কম্পনের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যায় একের পর এক বহুতল আবাসিক ভবন। বিশেষ করে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন শুধুই এক ধ্বংসস্তূপ।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৬,৭৪০ জন। হাসপাতালগুলিতে আহতদের চিকিৎসা চলছে। তবে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নিখোঁজ মানুষদের নিয়ে। এখনও কয়েক হাজার মানুষের কোনও সন্ধান মেলেনি। দুই সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ওই মানুষগুলির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।
সরকারিভাবে অলৌকিক কিছু ঘটার আশা ছেড়ে দেওয়া হলেও, নিখোঁজদের স্বজনরা এখনও হাল ছাড়েননি। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো ফিরে পাওয়ার আশায় ধ্বংসস্তূপের ওপরেই দিন-রাত কাটছে তাঁদের। এদিকে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভেনেজুয়েলার পরিকাঠামো আগে থেকেই দুর্বল ছিল। ফলে দুর্গতদের খাবার, জল ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রশাসনের কাছে এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

