ভগবানের কৃপা লাভ
সাধুসন্তরা বলেন—কাতর প্রার্থনার দ্বারা ভগবানের অনুগ্রহ লাভ করা যায় এবং মনের মন্দ প্রবৃত্তিগুলিকে রোধ করা যায়। ভগবানের আশীর্বাদ কল্পনামাত্র নয়। এটা একটা চরম অভিজ্ঞতা। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যে কেউ ঐকান্তিক নিষ্ঠায় তাঁর করুণালাভ করতে পারে। সাধারণ ভক্ত দৈবী সম্পদ লাভ করেছেন এমন বহু উদাহরণ আছে। বস্তুজাগতিক বিশ্ব চলে গাণিতিক নীতিতে যেখানে কার্যকারণ সূত্র বিশেষভাবে কার্যকরী। কিন্তু ভগবানের দয়া তো আর পরিমাপ করা যায় না। প্রার্থনার কার্যকারিতা এবং ঈশ্বর কৃপার তিলমাত্র সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। যদি কোন ভক্ত সতত নিষ্ঠাভরে প্রার্থনা জানাই। ভগবানের করুণা সে অবশ্যই পাবে। শ্রীঅরবিন্দ বলেছেন, তার মানে এই নয় যে, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই তা পাবেন। যারা ধৈর্য ধরে আধ্যাত্মিক সাধনায় প্রবৃত্ত থাকেন তারাই কেবল ঈশ্বরের কৃপালাভের আশা করতে পারেন। অহং ত্যাগ করে ঈশ্বরে বিশ্বাস ও পরিপূর্ণ নির্ভরতা এবং ত্যাগব্রত— এগুলিই হলো ভগবানের বিশেষ কৃপালাভের উপায়। বেশিরভাগ মানুষ যারা মনে করে তারা ঈশ্বরে সর্বস্ব সমর্পণ করেছে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আসলে তারা অলসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে আর হীন পশু প্রবৃত্তির দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এইসব বাধা গুলি অতিক্রম না করতে পারলে কিন্তু ঈশ্বরের করুণা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, "তাঁর কৃপাবাতাস তো অহোরাত্র বইছেই। পাল তুলে দে না।" যারা সক্ষম এবং সাহসী তারাই সুযোগ পাবে অলসরা নয়। যাদের মনে কামনা বাসনা ও অন্তরে গরল তাদের কাছে ঈশ্বরের করুণা কোন কাজে আসবে না। স্বামীজী বলেছেন, যারা তাঁকে পাওয়ার জন্য নিয়ত সংগ্রাম করছেন তারাই তাঁর অনুগ্রহ লাভ করবেন।

