বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বোধিবৃক্ষ

চেপে রাখা ইতিহাস

প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬
চেপে রাখা ইতিহাস
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

আমাদের দেশের এটাই বোধহয় ট্র্যাডিশন যে, কোন গুন্ডা বদমাশের মৃত্যু হলে সংবাদপত্রের হেডলাইনে প্রকাশিত হয়। কিন্তু কোন মনীষীর মৃত্যু হলে সে খবর পাঁচের পাতার তিন নম্বর কলমের চারটি লাইনে প্রকাশিত হয়। আমাদের দেশের এটাই ট্রাজেডি যে, বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত ইতিহাস কে চেপে দিয়ে বিকৃত ইতিহাস পড়তে বাধ্য করা হয়। আমাদের ইতিহাস চেতনা সঠিকভাবে গড়ে না ওঠার জন্য আমাদের দেশের মহাপুরুষদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে যাই। বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে আমরা এই ভাবেই চেপে রেখেছি। ১৯০১ সালে ৬ ই জুলাই কলকাতার বিখ্যাত এক পরিবারে বেণী নামে যে শিশুর জন্ম হলো তিনিই শ্যামাপ্রসাদ। আদতে বাংলায় রামায়ণ লেখক নদীয়ার ফুলিয়া গ্ৰামের কৃত্তিবাস ওঝার বংশের উত্তরপুরুষ, বাংলার বাঘ, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, বিদগ্ধ পণ্ডিত, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গণিতজ্ঞ, বহুভাষাবিদ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পুত্র ডঃ শ্যামাপ্রসাদ। শিক্ষাঙ্গন থেকে তাঁর রাজনীতিতে আসার একমাত্র কারণ ছিল তৎকালীন বাংলার নিষ্পেষিত, সাম্প্রদায়িক শক্তির আক্রমণের শিকার হিন্দুসমাজকে রক্ষা করা এবং হিন্দু অধ্যুষিত পশ্চিমবাংলাকে পাকিস্তানের কবল থেকে বের করে ভারতের সঙ্গে যুক্ত রাখার প্রয়াস। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দজী সেই সময়ে সমগ্র পূর্ববঙ্গের হিন্দু সমাজের একমাত্র রক্ষাকর্তা ছিলেন। সাম্প্রদায়িক দুষ্টু দুর্বৃত্তদের হাত থেকে হিন্দু সমাজকে রক্ষা করতে তিনি গ্রামে গ্রামে গড়ে তুললেন হিন্দু মিলন মন্দির এবং যুবকদের নিয়ে রক্ষীদল। তিনি একমাত্র বুঝেছিলেন রাজনৈতিক দিক থেকে আন্দোলন করে বাংলার হিন্দু জনসমাজকে রক্ষা করতে পারবেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাই তিনি শ্যামাপ্রসাদ কে হিন্দু সমাজে রক্ষাকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার অর্পণ করেছিলেন। সেই ইতিহাস আজ আমাদের কাছে অজানা থেকে গেছে। সেই প্রসঙ্গে আর এখানে আলোচনা নয়। সংক্ষেপে শ্যামাপ্রসাদের আধ্যাত্মিক ভাবনাকে উল্লেখ করে এই আলোচনা শেষ করব। তিনি লিখছেন, "ভগবানকে ডাকতে শিখিনি প্রাণ খুলে, এটা আমার একটা মস্ত অভাব। ভগবানে বিশ্বাস করি। তিনি কে কোন্ দেবতার মধ্যে আছেন তা জানিনা জানতে চাইও না। হে ঈশ্বর! বিশ্বাস দাও, শক্তি দাও, সাহস দাও, মনে শান্তি দাও। অন্যের উপকার করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা দাও।" মাত্র ৫২ বছরের মানব জীবন তিনি সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষিত করেছিলেন দেশের জন্য,  মানুষের কল্যাণের জন্য।তিনি না থাকলে আজ আমরা পাকিস্তানের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে পরিচিত হতাম। জহরলাল নেহেরু একদিন যখন শ্যামাপ্রসাদকে বলেছিলেন যে, তুমিও দেশভাগকে সমর্থন করেছ, তখন শ্যামাপ্রসাদ তার উত্তরে বলেছিলেন—আপনারা দেশকে ভারত ও পাকিস্তান এই দুই খন্ডে বিভক্ত করেছেন, আর আমি পাকিস্তানকে ভাগ করেছি। সুতরাং পাকিস্তান কে ভাগ না করলে বাঙালি হিন্দুর আজ কি পরিণতি হত তা কল্পনা করলে ভীত হই। তিনি না এগিয়ে এলে আমরা স্বামীজীর পুণ্যভূমি থেকে বঞ্চিত হতাম। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ আমাদের মধ্যে যেন সর্বদা জাগ্রত থাকে।

আরও বোধিবৃক্ষ খবর