আমাদের মনোবৃত্তি?
কাঠকুড়ানী বৃদ্ধার কথা মনে পড়ে? আমাদের মনোবৃত্তিও কী তার মতো? কাহিনীটা এই রকম —সংসারে তার কেউ নেই, সম্পদ কিছু নেই। অতি কষ্টে বনের কাঠ কুড়িয়ে ও সেগুলি বিক্রি করে তার সংসার চলে। একদিন বৃদ্ধা কাঠের বোঝাটি মাটি থেকে মাথায় তুলতে পারছে না, খুব ভারী লাগছে। নিকটে কেউ নেই যে তাকে সাহায্য করে। প্রচন্ড কষ্ট করে, ঘাম ঝরিয়ে শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধার শরীর কাঁপছে। তবুও বোঝাটি তুলতে পারল না। হঠাৎ তার মনে বড় ধিক্কার এলো। ভাবলো সহায় নেই, সম্বল নেই, কোন আশা নেই ভালোবাসা নেই, তাহলে এই জীবনের কি অর্থ? হতাশ বৃদ্ধা, নিজের মনে বলে উঠলো হায়রে যম ঠাকুর, এত লোককে দয়া করছো আমার উপর কি একটুও দয়া হয় না, আমাকে কি তুমি ডেকে নেবে না! যম ঠাকুর ঠিক শুনতে পেলেন এবং দেহ ধারণ করে বৃদ্ধার সামনে এসে হাজির হলেন। বৃদ্ধা যমরাজকে দেখে হতভম্ব। সর্বনাশ এখনই কি তার সঙ্গে যেতে হবে! আমি না হয় একবার দুঃখে বলেই ফেলেছি, তাই বলে মাত্র এই ৮০ বছর বয়সেই চলে যেতে হবে সাধের কুঁড়েঘরটি ছেড়ে! এই কাঠ কুড়ানো, আর পান্তা ভাত খাবার আনন্দ সব বিসর্জন দিয়ে চলে যেতে হবে? না না তা কখনো পারা যায়? অন্তর্যামী যম ঠাকুর বৃদ্ধার কথা বুঝে ফেললেন। হিসাবের খাতা খুলে দেখলেন বৃদ্ধার এখনো দুই বছর এক মাস তিন দিন পরমায়ু পাওনা আছে। আহা বেচারী! ভোগ করে নিক এই সময়টুকু। ঠাকুর বললেন বুড়িমা তুমি আমায় ডাকলে কেন? হঠাৎ বৃদ্ধার মাথায় বুদ্ধি খুলে গেল। বলল এসেছ যখন বেশ করেছ। এই কাঠের বোঝাটি খুব ভারি, এইটি আমার মাথায় তুলে দাও। যমরাজ বৃদ্ধার মাথায় বোঝাটি তুলে দিয়ে হাসতে হাসতে অন্তর্হিত হলেন। দেখুনতো এই মনোবৃত্তি কি আমাদেরও নেই? কত দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা, তবুও আরো কিছুদিন ভোগ করার ইচ্ছা কী প্রবল নয়!

