ধর্ম সঙ্গীতের মহিমা
২৫ শে বৈশাখ বললেই সকলের মননে চলে আসবে বিশ্বকবি উপনিষদের কবি রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনের মধুর স্মৃতি। কিন্তু ১২ ই আশ্বিন বললে আমরা অনেকেই বলতে পারবো না যে ঐ দিন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন। আবার ১৩ ই আষাঢ় এলেই আমাদের মনে আসে না যে এইদিন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে যেমন ২৫ শে বৈশাখ, ২২ শে শ্রাবণ বাঙালির হৃদয়কে দোলা দেয়, তেমনি অন্যান্য বাঙালি মণীষীদের জন্মদিন যদি বাংলা সন তারিখ ধরে পালন করা যায় তাহলে ক্ষতি কী? আজ (১৩ ই আষাঢ়,১২৪৫ সন) ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। তাঁর বন্দে মাতরম্ একদিকে স্বদেশ মন্ত্র, অন্যদিকে স্বদেশসঙ্গীত। বন্দে মাতরম্ মন্ত্র উচ্চারণ করেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ভারতবাসী দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদানের সংগ্ৰাম শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্দে মাতরম্ - ই ছিল অখণ্ড ভারতের সমবেত স্বদেশসঙ্গীত। ঋষি অরবিন্দ বন্দে মাতরমের ঋষি সম্পর্কে তিনটি অনবদ্য মূল্যায়ন করেছেন —১) বঙ্কিমচন্দ্রের সমস্ত রচনাবলীর শ্রেষ্ঠ ভাব হল স্বদেশধর্ম বা দেশাত্মবোধের ধর্ম। ২) যে নতুন প্রেরণায় প্রবুদ্ধ হয়ে আমরা নবজাগরণ ও স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হচ্ছি তার প্রেরণাদাতা ও রাষ্ট্রগুরু হলেন বঙ্কিমচন্দ্র। ৩) বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বোৎকৃষ্ট দান হল জননী জন্মভূমির মাতৃরূপ দর্শন। কিন্তু জটিল ও কুটিল রাজনীতির আবর্তে এই শক্তিজাগরণী পবিত্র মন্ত্রের মর্মার্থকে উপলব্ধি করতে যারা অপারক তারা নানাভাবে এর বিকৃত ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন। এই বিতর্ক আজও সমানভাবে চলছে। স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৮৩ সালের জানুয়ারিতে "বান্ধব" পত্রিকার সম্পাদক কালীপ্রসন্ন ঘোষকে লিখেছেন — "এক্ষণে জানিলাম ইহার ভিতরে অনেক চক্র আছে।---- সেই মন্থরার দল আমাদের স্বদেশী স্বজাতি, আমার তুল্য পদস্থ ; আমার ও আপনার বন্ধুবর্গের মধ্যে গণ্য। আমিই বা আনন্দমঠ লিখিয়া কি করিব , আপনিই বা তাহার মূলমন্ত্র বুঝাইয়া কি করিবেন? এই ঈর্ষাপরবশ জাতির উন্নতি নাই। বল, বন্দে উদরম্।" সুতরাং বন্দেমাতরম মন্ত্রের স্রষ্টার এই খেদোক্তি কতটা বেদনাদায়ক তা আমরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি। আজও সেই মন্থরার দল সমানভাবে সক্রিয়।

