যুদ্ধে যৌন হিংসার তীব্র নিন্দা ভারতের
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতময় অঞ্চলে নারীদের ওপর চলমান যৌন হিংসাকে (সিআরএসভি) যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাজকে অবদমিত করতে, ভিন্নমত দমন ও চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে সুপরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য অপরাধ ঘটানো হচ্ছে।জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘সংঘাতকালীন যৌন হিংসা’ বিষয়ক এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পি হরিশ এই প্রতিক্রিয়া জানান।
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত পি হরিশ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে সংঘাতকালীন যৌন হিংসার ঘটনা ও এর নির্মমতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দায়মুক্তির সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে এখনো যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের কৌশল, সন্ত্রাসবাদ ও নির্যাতনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারত এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে।”
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ভারতের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় দূত বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে নারী শান্তিরক্ষীদের মোতায়েন অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০০৭ সালে লাইবেরিয়ায় ভারতের পাঠানো বিশ্বের প্রথম সর্ব-মহিলা পুলিশ ইউনিটের (FPU) সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন, যা সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল।একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতীয় শান্তিরক্ষী মেজর মইজ ইয়াসিন এবং মেজর সোনিয়া দেবেন্দ্র নাভাস্কারকে ২০২৬ সালের ‘ইউএন সেক্রেটারি-জেনারেলস মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ স্বীকৃতি সনদে ভূষিত করা হচ্ছে।

